বাংলাদেশ ডেস্ক
চলতি বছরের পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৪৯২ জন হজযাত্রী। শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ তিনটি পৃথক বিমান সংস্থার মোট ১২৯টি ফ্লাইটে তারা জেদ্দা ও মদিনায় অবতরণ করেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের সবশেষ বুলেটিনে রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হজ হেল্প ডেস্কের তথ্যানুযায়ী, সৌদি আরব পৌঁছানো মোট হজযাত্রীদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৫৯টি ফ্লাইটে ২৩ হাজার ৫৯১ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৮টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৪২ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৮৮৯ জন যাত্রী রয়েছেন। ব্যবস্থাপনার দিক থেকে সরকারি মাধ্যমে সৌদি আরব গিয়েছেন ৪ হাজার ৭১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪৬ হাজার ৪২১ জন হজযাত্রী।
উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। বেসরকারি পর্যায়ের হজযাত্রীদের জন্য ৬৬০টি নিবন্ধিত এজেন্সি এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি হিসেবে কাজ করছে।
গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। ওই ফ্লাইটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবারের হজযাত্রা। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং ফ্লাইট শিডিউল নিশ্চিত করতে ঢাকা এবং সৌদি আরবের হজ অফিসগুলোতে সমন্বিত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ধারিত ধর্মীয় বিধান পালনের পর আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৩০ জুনের মধ্যে ফিরতি সব ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের বাংলাদেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।
এবারের হজে হজযাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিমান সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে সৌদি আরবের কঠোর আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলার জন্য হজযাত্রী ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে পূর্বেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাভেল ডকুমেন্টেশন ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। হজের মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হজ অফিস এবং হেল্প ডেস্ক সার্বক্ষণিক হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তথ্য প্রদান করবে।
হজ ব্যবস্থাপনার এই ধারাবাহিক অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিপুল সংখ্যক যাত্রীর আবাসন, যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সুষ্ঠুভাবে এবারের হজ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।