1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন আসিফ মাহমুদ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথ গ্রহণ, উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী হামে মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় গার্মেন্টস শ্রমিকের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার উপনির্বাচনে ডানপন্থী ওয়ান নেশনের জয়: সংকটে লিবারেল পার্টি তুরস্ক সফরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: যুব উন্নয়ন ও ক্রীড়া কূটনীতি জোরদারে গুরুত্ব সৌদি আরামকোর মুনাফা বেড়েছে ২৫ শতাংশ, প্রথম প্রান্তিকে আয় ৩২ বিলিয়ন ডলার অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ ও অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ গুরুত্বারোপ ঈদ ও বর্ষা মৌসুমে নৌপথের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়

সৌদি আরামকোর মুনাফা বেড়েছে ২৫ শতাংশ, প্রথম প্রান্তিকে আয় ৩২ বিলিয়ন ডলার

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তাদের নিট মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির মুনাফা ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিকল্প রফতানি রুট ব্যবহার এবং কৌশলগত ব্যবস্থাপনার কারণে এই আর্থিক সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

কোম্পানির প্রকাশিত সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে আরামকোর নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালে, যা মার্কিন ডলারে ৩২ দশমিক ৫ বিলিয়ন। অথচ ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ৯৫ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন রিয়াল বা প্রায় ২৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, এ সময়ে কোম্পানিটির মোট বিক্রির পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের ১০৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিক্রয়লব্ধ আয় দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আরামকোর এই মুনাফা বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং সৌদি আরবের অবকাঠামোগত সক্ষমতা। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের হরমুজ প্রণালী ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা এড়াতে সৌদি আরব তাদের বিকল্প রুটগুলো ব্যবহার করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ‘ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন’। বর্তমানে এই পাইপলাইনটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে, যা আরামকোকে বিশ্ববাজারে নির্বিঘ্নে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সুবিধা প্রদান করেছে।

আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের কৌশলগত অবকাঠামো হিসেবে পরিচিত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতায় পৌঁছেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যখন হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সীমাবদ্ধতা বা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তখন এই বিকল্প রুটটি গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি কেবল কোম্পানির আর্থিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব কমাতেও অবদান রাখছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন, আরামকোর এই উচ্চ মুনাফা বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি বিশেষ দিক ইঙ্গিত করে। নাসেরের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও প্রমাণ করেছে যে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে তেল ও গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতি সচল রাখা প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বিশ্বের ঝোঁক থাকলেও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা আরামকোর মতো বিশালাকার প্রতিষ্ঠানের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।

সৌদি আরবের এই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি তাদের সক্ষমতা বাড়াতে এবং রফতানি রুট বৈচিত্র্যময় করতে যে বিনিয়োগ করেছে, তার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলেও সৌদি আরব বিকল্প রুটের মাধ্যমে নিজেদের বাজার অংশীদারিত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। মূলত লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোই আরামকোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করেছে। ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই মুনাফার ধারা কতটা স্থিতিশীল থাকে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে প্রথম প্রান্তিকের এই রেকর্ড মুনাফা জ্বালানি খাতে সৌদি আরবের আধিপত্য ও কৌশলগত দক্ষতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026