নিজস্ব প্রতিবেদক
তুরস্কের কোনিয়া শহরে আয়োজিত ‘কোনিয়া ওআইসি ইউথ ক্যাপিটাল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক রাষ্ট্রীয় সফরে তুরস্কে গেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। রবিবার (১০ মে) সকালে রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। সফরকালে তুরস্কের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সাথে তাঁর একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর তরুণ সমাজের মধ্যে সংহতি স্থাপন এবং বাংলাদেশের ক্রীড়া ও যুব অবকাঠামো উন্নয়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক তুরস্কের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এই বৈঠকে দুই দেশের যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে যুব উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উভয় দেশের তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের মানোন্নয়নে তুরস্কের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা পাওয়ার লক্ষ্যে প্রতিমন্ত্রী তুর্কি ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তুরস্কের অবস্থান এবং তাদের একাডেমিগুলোর সাফল্য বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। ক্রীড়া কূটনীতির এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের মানোন্নয়ন এবং কোচ ও খেলোয়াড়দের উন্নত প্রশিক্ষণের পথ প্রশস্ত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সফরের অন্যতম বিশেষ দিক হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইথনোস্পোর্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা পুনরুজ্জীবিত করার কৌশল এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশীয় খেলাগুলোকে পরিচিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্বায়নের এই যুগে লোকজ ক্রীড়া সংস্কৃতি রক্ষা ও প্রসারে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরাই এই সাক্ষাতের লক্ষ্য।
দ্বিপাক্ষিক সরকারি বৈঠকের পাশাপাশি তুরস্কের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘একে পার্টি’র প্রতিনিধিদের সাথেও প্রতিমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এই রাজনৈতিক যোগাযোগ দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এই সফরের গুরুত্ব উল্লেখ করে ইতিপূর্বে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে জনসংখ্যাগত লভ্যাংশ বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সময় অতিবাহিত করছে। দেশের এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তুলতে ওআইসিভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সাথে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এই সফরের মাধ্যমে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ব আরও দৃঢ় হবে। একইসাথে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে তুরস্কের সহযোগিতা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য যে, পাঁচ দিনের সফর শেষে আগামী ১৪ মে প্রতিমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাঁর এই সফর বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং আধুনিক ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।