অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রেক্ষাপটে আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। এর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়। গত বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়, যা ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। আজ রবিবারও সারাদেশে একই বর্ধিত মূল্যে স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন দাম অনুসারে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে প্রতি ভরির দাম পড়বে ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪ হাজার ৬৩ টাকা। দেশের বাজারে অলংকার তৈরির ক্ষেত্রে এই নতুন মূল্যমান এখন থেকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর আগে গত বুধবারও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ার ফলে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজুস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশের বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত এই মূল্য সমন্বয় করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবের কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের বাজারে পড়ছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম বা উৎসবের সময়ে স্বর্ণের চাহিদার বিপরীতে যোগান সীমিত থাকলে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য স্বর্ণের এই ক্রমবর্ধমান মূল্য একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের জন্য অলংকার কেনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।
বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক মাস ধরেই স্বর্ণের দাম দফায় দফায় ওঠানামা করছে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও সামনের দিনগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে। তবে দাম বাড়ার ফলে খুচরা বাজারে অলংকার বিক্রিতে কিছুটা মন্দা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের সুবিধার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাজুস নিয়মিতভাবে স্বর্ণের মান ও দাম পর্যবেক্ষণ করে নতুন নির্দেশনা প্রদান করে থাকে।
বর্তমান বাস্তবতায় স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির এই হার বাংলাদেশের বাজারে ঐতিহাসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বর্ণের এই উচ্চমূল্য কেবল অলংকার শিল্পেই নয়, বরং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলবে। জুয়েলারি খাতের উদ্যোক্তারা আশা করছেন, বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে, যা সাধারণ ক্রেতা এবং ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই স্বস্তিদায়ক হবে। আপাতত পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বাজুস নির্ধারিত এই নতুন মূল্যই সারাদেশে কার্যকর থাকবে।