আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে প্রকাশ্য সড়কে এক তরুণীকে মারধরের চেষ্টাকালে স্থানীয় জনতা এক যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত যুবক সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনার সময় ওই তরুণী রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ অভিযুক্ত যুবক একটি স্কুটার নিয়ে এসে তার পথরোধ করেন এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করতে শুরু করেন। ব্যস্ত সড়কে দিনের আলোয় এমন আকস্মিক হামলার ঘটনায় পথচারীরা প্রথমে হতভম্ব হয়ে পড়লেও দ্রুত তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, যুবক যখন ওই তরুণীকে বারবার আঘাত করার চেষ্টা করছিলেন, তখন উপস্থিত লোকজন তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা যুবককে ঘিরে ধরে গণপিটুনি দেয়। এই সময় ওই এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবক অত্যন্ত সহিংস আচরণ করছিলেন এবং সময়মতো হস্তক্ষেপ করা না হলে ওই নারী গুরুতর আহত হতে পারতেন।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, আক্রান্ত তরুণী ও হামলাকারী যুবক পরস্পর বিবাহিত। তবে তাদের মধ্যে ঠিক কী কারণে এই পারিবারিক কলহ তৈরি হয়েছিল এবং কেন তা প্রকাশ্য সড়কে এমন সহিংস রূপ নিল, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা সম্ভব হয়নি। পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘটনার ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের একটি বড় অংশ ঘটনার সময় উপস্থিত জনতার তাৎক্ষণিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বর্তমানে জনবহুল এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় অনেকেই কেবল ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকেন, কিন্তু এই ক্ষেত্রে পথচারীরা সরাসরি ওই নারীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছেন, যা ইতিবাচক নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে অপরাধী যুবকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
কর্ণাটক পুলিশ বা বেঙ্গালুরু স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। যুবক কিংবা ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও আইনি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসমক্ষে এ ধরনের পারিবারিক সহিংসতা কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং এটি জননিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং দোষীর শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত ওই তরুণীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।