রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকার একটি বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার ভোররাতে কদমতলীর একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দগ্ধরা হলেন—পেশায় সবজি বিক্রেতা মো. কালাম (৪৫), তার স্ত্রী সালমা বেগম (৩৫) এবং তাদের তিন সন্তান। আহতদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে কদমতলী এলাকার ওই ভবনের নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে পরিবারের একজন সদস্য রান্নার জন্য রান্নাঘরে গিয়ে গ্যাস বাতি জ্বালালে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দগ্ধদের উদ্ধার করেন এবং তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভস্মীভূত হয়েছে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, দগ্ধ পাঁচজনের শরীরেই আগুনের শিখা লেগেছে। এর মধ্যে মো. কালাম ও তার স্ত্রী সালমা বেগমের শরীরের উল্লেখযোগ্য অংশ দগ্ধ হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুদের অবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে রান্নার পর গ্যাসের চুলার চাবি কিংবা সিলিন্ডারের পাইপ থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘর ও সংলগ্ন কক্ষে জমা হয়েছিল। ভোরে ম্যাচের কাঠি জ্বালানোর সাথে সাথেই জমে থাকা গ্যাস থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে কক্ষের ভেতর পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় গ্যাস দীর্ঘক্ষণ ধরে জমা ছিল।
রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বিশেষ করে পুরনো ও ঘিঞ্জি ভবনগুলোতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অসতর্কতা এবং ত্রুটিপূর্ণ সংযোগের কারণে ইদানীং এ ধরনের দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবদ্ধ ঘরে গ্যাস জমে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। লিক হওয়া গ্যাস থেকে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত সিলিন্ডার ও রেগুলেটর পরীক্ষা করা এবং রাতে ঘুমানোর আগে গ্যাসের প্রধান চাবি বন্ধ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কদমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিলিন্ডারটি নিম্নমানের ছিল কি না কিংবা সংযোগে অন্য কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসাধীন পরিবারটির সদস্যদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের চেষ্টা চলছে বলে বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।