আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক পদে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল সারা। গত শনিবার (৯ মে) রাষ্ট্রীয় ডিক্রির মাধ্যমে তিনি এই রদবদল সম্পন্ন করেন। এতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব পদ থেকে প্রেসিডেন্টের আপন ভাইকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তথ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়েও নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট সারা তার ভাই মাহের আল সারাকে সিরিয়ান প্রেসিডেন্সির সেক্রেটারি জেনারেল পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। মাহেরের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে হোমস প্রদেশের সাবেক গভর্নর আব্দুল রহমান বাদরেদ্দিন আল-আমআকে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে তথ্যমন্ত্রী হামজা আলমুস্তাফার পরিবর্তে খালেদ ফাওয়াজ জারুরকে নতুন তথ্যমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী আমজাদ বদরের স্থানে বাসেল হাফেজ আল-সুইদেনকে নতুন কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পাশাপাশি প্রাদেশিক পর্যায়েও রদবদল করা হয়েছে। হোমস, কুনিত্রা, লাতাকিয়া এবং দের ইজ্জুর—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সারা। প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর আহমেদ আল সারা সিরিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন এবং পাঁচ বছর মেয়াদী একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন। এই সরকার গঠনের সময় তিনি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় কেন এই বড় ধরনের রদবদল করা হলো, সে সম্পর্কে সরকার বা রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসাদ-পরবর্তী সিরিয়া পুনর্গঠন এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কারে আহমেদ আল সারার ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ব্যাপক চাপ রয়েছে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান রদবদল সেই প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়ারই অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া হোমস ও লাতাকিয়ার মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে নতুন গভর্নর নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সিরিয়ার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক সংস্কার দেশটির স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।