রাজনীতি ডেস্ক
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ১০টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রতা এবং বর্তমান নেতৃত্বের অনেকের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে কাজের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির পরিকল্পনা করছে দলটির হাইকমান্ড।
বিএনপি দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ও মতবিনিময় করছেন। এসব বৈঠকে তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও জনমুখী করার পাশাপাশি নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। বিশেষ করে ত্যাগী, পরিশ্রমী ও তরুণ নেতাদের সামনে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ ১১টি সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের রদবদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের বর্তমান আংশিক কমিটি গঠনের পর ২২ মাস অতিবাহিত হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সাংগঠনিক কাজে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। ফলে যুবদলে নতুন নেতৃত্বের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। শীর্ষ দুই পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন হাসান, গোলাম মাওলা শাহীন, রুহুল আমিন আকিল, মাহবুবুল হাসান পিংকুসহ ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে, স্বেচ্ছাসেবক দলেও নেতৃত্বের পরিবর্তনের গুঞ্জন রয়েছে। ইয়াছিন আলী, ফখরুল ইসলাম রবীন, নাজমুল হাসান এবং ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ একাধিক নেতার নাম শীর্ষ পদের জন্য আলোচিত হচ্ছে।
ছাত্রদলের ক্ষেত্রেও নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের কাজ চলছে। শ্যামল মালুম, আমান উল্লাহ আমান, মো. খোরশেদ আলম সোহেলসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা শীর্ষ পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল পুনর্গঠনেও জ্যেষ্ঠ নেতারা কাজ করছেন। তারেক রহমান ইতিমধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নতুন নেতৃত্বের মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময় কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়া এবং দ্বৈত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংগঠনিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সেই স্থবিরতা কাটানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। বিশেষ করে ঈদুল আজহার আগে বা ঠিক পরেই নতুন এই কমিটিগুলো ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে এবং দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া একটি চলমান কাজ এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্য ও ত্যাগীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি উপহার দেওয়া হবে।