আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ মরদেহ পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের ইকে-০২২০ ফ্লাইটে মরদেহটি ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। মরদেহের সাথে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন ১৭ এপ্রিল তাদের এক সহপাঠী বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, তারা দুজনেই অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এই জোড়া খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে লিমনের রুমমেট ও মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহত অপর শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে দেশে এসে পৌঁছায়।
নাহিদা ও লিমনের অকাল প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাদের মেধা ও গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিহত দুই শিক্ষার্থীকেই মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন বসন্তকালীন সমাবর্তনে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। গত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মায়ামিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
চিঠিতে কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে উক্ত ডিগ্রি ও সম্মাননা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট নিশ্চিত করেছে যে, নির্ধারিত দিনে তাদের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে এই সম্মাননা গ্রহণ করবেন।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটি এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।