ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল বাভারিয়ানরা। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনায় উঠে এসেছে হ্যান্ডবল নিয়মের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা এবং রেফারিদের সিদ্ধান্তের বৈষম্য। দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি রেফারির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন।
প্যারিসে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখ হারের মুখে পড়েছিল একটি বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্তের কারণে। সেই ম্যাচে বায়ার্ন ডিফেন্ডার আলফানসো ডেভিসের থাইয়ে লেগে বল হাতে লাগলে রেফারি পিএসজির পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে পিএসজি গুরুত্বপূর্ণ লিড পায়। তবে বুধবার রাতে মিউনিখে ফিরতি লেগের ম্যাচে প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও রেফারির সিদ্ধান্ত ছিল ভিন্ন। পিএসজির মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসের হাতে বল লাগলেও পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো এবার পেনাল্টির আবেদনে সাড়া দেননি।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি তার হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, এই ধরনের দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত ফুটবলার ও কোচদের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন। তার মতে, পেনাল্টির নিয়মগুলো এখন অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। কোম্পানি বলেন, বল সরাসরি হাতে লেগেছে এবং এটি ম্যাচের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে। প্যারিসে আমাদের বিরুদ্ধে যে যুক্তিতে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছিল, মিউনিখে সেই একই যুক্তিতে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। আইনের এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যাগুলো ফুটবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শেষ পর্যন্ত দুই লেগ মিলিয়ে এক গোলের ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় ওই পেনাল্টি সিদ্ধান্তটিই বায়ার্নের বিদায়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচের শুরুটা বায়ার্নের জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। নিজেদের ঘরের মাঠে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় খেলা শুরু হওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর বায়ার্ন সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়ে যায়। পুরো ম্যাচে বলের দখল এবং আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও পিএসজির রক্ষণভাগ ভাঙতে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে অর্থাৎ ৯৪ মিনিটে ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন গোল করে খেলায় সমতা ফেরালেও তা ফাইনালে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও প্রথম লেগের অগ্রগামিতার কারণে ফাইনালে পৌঁছে যায় পিএসজি।
রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও প্রতিপক্ষ পিএসজির কৌশলী ফুটবলের প্রশংসা করেছেন বায়ার্ন কোচ। তিনি স্বীকার করেন যে, পিএসজি রক্ষণভাগে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ছিল। বায়ার্নের উইঙ্গারদের ক্রসগুলো রুখে দিতে এবং গোলবক্সের সামনে জটলা তৈরি করে বায়ার্নকে শট নেওয়ার সুযোগ না দিতে তারা সফল হয়েছে। বায়ার্ন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও পিএসজি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে রক্ষণভাগের পেছনের খালি জায়গাগুলো নিয়ন্ত্রণ করেছে।
ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হ্যান্ডবল এবং ভিএআর (VAR) ব্যবহারের নিয়মাবলী বারবার সংস্কার করলেও মাঠের রেফারিদের সিদ্ধান্তের ভিন্নতা নিয়ে বিতর্ক থামছে না। বায়ার্ন মিউনিখের মতো একটি বড় ক্লাবের এভাবে বিদায় নেওয়া এবং কোচের সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সেমিফাইনালের মতো উচ্চ পর্যায়ের ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্তের এই বৈষম্য আগামীতে ফুটবলের নিয়মাবলী আরও স্বচ্ছ করার দাবি তুলবে। শেষ পর্যন্ত বিতর্ক সঙ্গী করেই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের লড়াই থেকে ছিটকে যেতে হলো শিরোপার অন্যতম দাবিদার বায়ার্ন মিউনিখকে।