1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এক মাসে ৫ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ৩০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জুলাইয়ের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও জুতা বিতরণ: প্রতিমন্ত্রী বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে ইরানের প্রস্তুতির বার্তা; অধিকার রক্ষায় অনড় পেজেশকিয়ান ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির প্রথম জানাজা সম্পন্ন, মরদেহ দেশে পৌঁছাবে শনিবার এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সঙ্গে মার্কিন চুক্তির সম্ভাবনা, আশাবাদী ট্রাম্প হায়দরাবাদে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে সামান্থা ও নাগা চৈতন্য, এড়িয়ে চললেন একে অপরকে রেকর্ড উচ্চতায় সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১০ টাকা মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী চিরুনি অভিযান জোরদার: ১৫০ জন আটক তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা: পিছিয়ে গেল থালাপতি বিজয়ের শপথ গ্রহণ

কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে ইরানের প্রস্তুতির বার্তা; অধিকার রক্ষায় অনড় পেজেশকিয়ান

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক পথে হাঁটার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সংকট সমাধানে তেহরান প্রস্তুত। তবে এই প্রক্রিয়ায় ইরানি জনগণের কোনো মৌলিক অধিকার বা জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।

সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। ইরানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গাজা সংকট এবং পশ্চিমের সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ফরাসি প্রেসিডেন্টকে বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধ বা অস্থিরতা চায় না। বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে তিনি ওয়াশিংটনের প্রতি গভীর অনাস্থা প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পেজেশকিয়ানের ভাষ্যমতে, আলোচনা চলাকালেই ইরানকে লক্ষ্য করে একাধিকবার প্রতিকূল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন।

এদিকে, বৈশ্বিক কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, শত্রুতা কমিয়ে আনতে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, মাত্র এক পৃষ্ঠার এই খসড়া চুক্তিতে উভয় পক্ষের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তারোপ করা হয়েছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান তাদের বিতর্কিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় স্থগিত রাখতে সম্মত হতে পারে। এর বিনিময়ে ইরানের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘ সময় ধরে চেপে থাকা কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো পর্যায়ক্রমে শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমঝোতা সফল হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা যেমন স্থিতিশীল হবে, তেমনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অস্থিরতাও দূর হবে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ ও প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এই সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। বিশেষ করে গাজা ও লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান রয়েছে। পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, ফিলিস্তিন ইস্যু এবং আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো একপাক্ষিক সমাধান তেহরান গ্রহণ করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রক্ষণশীলদের প্রবল চাপের মুখে থেকেও তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইছেন, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার এই আলাপ মূলত ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কার্যকর মধ্যপন্থা খুঁজে বের করার কৌশল।

শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ নেয় কি না, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিবেদনের ওপর। তবে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব যে সামরিক সংঘাতের চেয়ে টেবিলের আলোচনাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পেজেশকিয়ানের এই ফোনালাপ তারই একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত বহন করে। কূটনৈতিক এই তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা হ্রাসে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026