1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এক মাসে ৫ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ৩০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জুলাইয়ের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও জুতা বিতরণ: প্রতিমন্ত্রী বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে ইরানের প্রস্তুতির বার্তা; অধিকার রক্ষায় অনড় পেজেশকিয়ান ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির প্রথম জানাজা সম্পন্ন, মরদেহ দেশে পৌঁছাবে শনিবার এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সঙ্গে মার্কিন চুক্তির সম্ভাবনা, আশাবাদী ট্রাম্প হায়দরাবাদে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে সামান্থা ও নাগা চৈতন্য, এড়িয়ে চললেন একে অপরকে রেকর্ড উচ্চতায় সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১০ টাকা মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসন বিরোধী চিরুনি অভিযান জোরদার: ১৫০ জন আটক তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা: পিছিয়ে গেল থালাপতি বিজয়ের শপথ গ্রহণ

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা, দুই দিনে গ্রেপ্তার চার শতাধিক

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনের অবসান ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত, ভাঙচুর ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং গত দুই দিনে রাজ্যজুড়ে চার শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক সিদ্ধনাথ গুপ্ত গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলার নাজুক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি প্রদান এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সহিংসতা রোধে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগাম সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের নান্নুর এলাকায় এবং অন্যটি কলকাতার নিউ টাউনে। ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক জানান, এই দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। বর্তমানে এই ঘটনাগুলোর নেপথ্য কারণ ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

এদিকে গত বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া অঞ্চলে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী দল বিজেপির প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই হামলার সময় চন্দ্রনাথ রথের গাড়িতে থাকা আরও এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর মধ্যমগ্রাম ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কলকাতার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ পার পাবে না এবং যারাই জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতা মহানগরী এলাকায় দুষ্কৃতকারীদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের আওতাধীন এলাকাগুলো থেকে ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং বাকি ১৫ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব শুধু রাজপথে নয়, প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রেও অনুভূত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নবান্ন থেকে পুনরায় রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরুসহ প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে জনমনে মূল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। বিশেষ করে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় দোকানপাট উচ্ছেদ ও ভাঙচুরের ঘটনা সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একচ্ছত্র শাসনের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ এই অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ। জয়ী ও পরাজিত—উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে সংঘাতের প্রবণতা রাজ্যের স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম এখন সময়ের দাবি। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026