আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। গত ৬ মে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, দেশজুড়ে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের দমন এবং অভিবাসন আইনের অপব্যবহার রোধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপী পরিচালিত অভিযানে ১৫০ জন অবৈধ অভিবাসী এবং ১৩ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৪ মে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে একযোগে ৩২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অভিবাসন বিভাগ। এসব অভিযানে আটককৃত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩-এর বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে বৈধ ভ্রমণ বা কাজের অনুমতিপত্র (ভিসা) না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা এবং অভিবাসন শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। একইসঙ্গে বৈধ নথিপত্র ছাড়াই বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়ার অপরাধে ১৩ জন স্থানীয় নিয়োগকর্তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
জেআইএম-এর পক্ষ থেকে বর্তমানে সামাজিক ভিজিট পাস এবং অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের (পিএলকেএস) অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটন বা স্বল্প মেয়াদী পাসে দেশটিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে অননুমোদিত বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের কাজ করছেন। আইন অনুযায়ী, একজন বিদেশি কর্মী যে খাতের জন্য পাস সংগ্রহ করেছেন, তার বাইরে অন্য কোনো পেশায় নিযুক্ত হওয়া গুরুতর অপরাধ। অভিবাসন বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এ ধরনের আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের পাস বাতিল, দেশ থেকে বহিষ্কার এবং ভবিষ্যতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারিসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মালয়েশীয় সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশি শ্রমিকদের শোষণ প্রতিরোধ করা। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ কর্মীরা নানা ধরনের শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এ কারণেই কেবল কর্মী নয়, বরং অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগকারী কোম্পানি ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আপসহীন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিবাসন বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, যথাযথ নথিপত্র ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো সমঝোতা ছাড়াই মামলা পরিচালনা করা হবে।
অভিবাসন বিভাগ আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দেশব্যাপী এই তল্লাশি ও অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও ব্যাপক পরিসরে অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল, নির্মাণ খাত এবং বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, কোথাও কোনো সন্দেহভাজন অবৈধ কার্যক্রম বা অননুমোদিত অভিবাসীদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা যেন দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
মালয়েশিয়ায় বর্তমানে কয়েক লাখ বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। দেশটির সরকারের এমন কঠোর অবস্থানে যারা সঠিক নথিপত্র ছাড়া অবস্থান করছেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ হওয়ার একাধিক সুযোগ দিলেও যারা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি, তাদের জন্যই এই ধরপাকড় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির শ্রমবাজারের সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।