1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার নতুন হার কার্যকর স্বাধীনতার ৫৪ বছর: ফুটবলের আবেগের বাইরে বাংলাদেশ-লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন সারাদেশে সোয়া ৭ কোটির বেশি নাগরিক পেলেন স্মার্টকার্ড নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সম্পন্ন, দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও একজনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে ৫ হাজার আনসার সদস্য অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সঙ্গে মার্কিন চুক্তির সম্ভাবনা, আশাবাদী ট্রাম্প

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ৫২ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৬ মে) ফক্স নিউজের সাংবাদিক ব্রেট বায়ারের সঙ্গে এক ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট এই সম্ভাব্য চুক্তির সময়সীমা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্প একে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে অভিহিত করলেও কূটনৈতিক মহলে বিষয়টিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা হ্রাসে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রেট বায়ার লাইভ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা নিয়ে হোয়াইট হাউস অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী সাত দিনের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত হতে পারে। একই দিনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালেও ট্রাম্প আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে আলোচনার টেবিলে বসতে এবং একটি চুক্তিতে উপনীত হতে আগ্রহী।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই চুক্তিতে মূলত দুটি প্রধান শর্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, ইরানকে তাদের মজুদকৃত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ কোনো তৃতীয় দেশে সরিয়ে নিতে হবে, যা পারমাণবিক অস্ত্র প্রসারের ঝুঁকি হ্রাস করবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটি বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়, যা নিরসনে ওয়াশিংটন বদ্ধপরিকর।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপট। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের হুমকি সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনা স্থায়ী কোনো সমাধানের পথে এগোতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগকে যুদ্ধবিরতি থেকে স্থায়ী চুক্তিতে উত্তরণের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান এখনও কঠোর রেখেছে। গত ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল রয়েছে। গত মঙ্গলবার (৫ মে) ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিচালিত মার্কিন বিশেষ অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই স্থগিতাদেশ মানেই অবরোধ প্রত্যাহার নয়; বরং মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নৌ-অবরোধ আগের মতোই কার্যকর থাকবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এক সপ্তাহের এই সময়সীমা মূলত দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট নিরসনের একটি পরীক্ষা। যদি ইউরেনিয়াম স্থানান্তর ও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে ইরান লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে পারে। অন্যথায়, এই আলোচনা ভেস্তে গেলে ওই অঞ্চলে পুনরায় সামরিক উত্তজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হবে। সমগ্র বিশ্ব এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সম্ভাব্য চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখার দিকে তাকিয়ে আছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026