আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার সীমান্তবর্তী শহর ব্রিয়ানস্কে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে পরিচালিত এই হামলায় শহরটির আবাসিক এলাকা ও বিপুল সংখ্যক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিজয় দিবস উপলক্ষে ঘোষিত একতরফা যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঠিক আগমুহূর্তে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার বোগোমাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতের অন্ধকারে চালানো এই ড্রোন হামলায় ব্রিয়ানস্কের বেজিৎসকি জেলার দু’টি বহুতল আবাসিক ভবন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় ওই ভবনগুলোর অন্তত ২০টি ফ্ল্যাটের জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে এবং ভেতরে থাকা আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আবাসিক এলাকার পাশে পার্ক করে রাখা প্রায় ৪০টি যানবাহন এই ড্রোন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
একই দিন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে উড়ে আসা অন্তত তিনটি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, রুশ সামরিক বাহিনীর পাল্টা হামলায় ইউক্রেনের দনিপ্রো অঞ্চলে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওই অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেক্সান্দর গানঝা।
এই হামলা এমন এক সময়ে সংঘটিত হলো যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মরণে মস্কোয় বার্ষিক বিজয় দিবস বা ‘ভিক্টরি ডে’ উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। ক্রেমলিন ঘোষণা করেছে যে, ৮ ও ৯ মে ইউক্রেন সীমান্তে তারা একতরফা যুদ্ধবিরতি পালন করবে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এর আগে ৬ মে দেওয়া একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, রাশিয়ার এই একতরফা যুদ্ধবিরতি কেবল সময়ক্ষেপণ এবং নতুন করে সেনা পুনর্গঠনের একটি কৌশল মাত্র।
এদিকে, কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের প্রতি এক বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবারের বিজয় দিবসের স্মরণানুষ্ঠানে ইউক্রেন যদি কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে বা ড্রোন হামলা চালায়, তবে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নীতিনির্ধারণী কেন্দ্রে কঠোর ‘প্রতিশোধমূলক হামলা’ চালানো হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার আন্তর্জাতিক মহলের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং প্রাণহানি রোধে বারবার আলোচনার প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া তা ক্রমাগত প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। তিনি রাশিয়ার এই একতরফা যুদ্ধবিরতিকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বসন্তকালীন এই সংঘাতের তীব্রতা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে একে অপরের সীমান্তবর্তী এবং অভ্যন্তরীণ শহরে আঘাত করার প্রবণতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। মস্কোর কঠোর হুঁশিয়ারি এবং সীমান্তে রাশিয়ার নতুন করে সৈন্য সমাবেশের খবরে কিয়েভসহ সমগ্র ইউরোপীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার এই কঠোর অবস্থান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।