সারাদেশ ডেস্ক
নড়াইল সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় চাঁদনী আক্তার খাদিজা (২২) নামে এক গৃহবধূকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সাকিব শেখের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রাম এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সাকিব শেখকে আটক করেছে নড়াইল সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত চাঁদনী আক্তার খাদিজা খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের কালাম শেখের মেয়ে। অন্যদিকে অভিযুক্ত সাকিব শেখ একই উপজেলার দামোদার গ্রামের বাসিন্দা। কয়েক দিন আগে তারা নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রামে সাকিবের খালাশাশুড়ির বাড়িতে সপরিবারে বেড়াতে আসেন। মূলত গত সোমবার (৪ মে) তারা সেখানে পৌঁছান। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাকিব শেখ কোনো সুনির্দিষ্ট পেশায় যুক্ত ছিলেন না এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। কর্মবিমুখতা ও মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে এই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বাগবিতণ্ডা ও পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে গৃহবধূ চাঁদনী তার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এসময় সাকিব শেখ ঘরোয়া কাজে ব্যবহৃত ধারালো বটি দিয়ে তার স্ত্রীর গলায় ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করেন। চাঁদনীর আর্তচিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ বলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত সাকিব ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি একটি দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা দাবি করেছিলেন যে, অসাবধানতাবশত বটির ওপর পড়ে গিয়ে চাঁদনী এই গুরুতর জখম হয়েছেন। তবে নড়াইল সদর থানা পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের আঘাতের ধরন দেখে সন্দেহ পোষণ করে। আঘাতের গভীরতা ও প্রকৃতি সাধারণ দুর্ঘটনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সাকিব শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যে অসংলগ্নতা থাকায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সাকিব শেখ তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, মাদক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সাকিব পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
পুলিশ আরও জানায়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নড়াইল সদর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা মদদদাতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং মাদকাসক্তির ভয়াবহ পরিণাম নিয়ে স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।