1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এক মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সব মামলা যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ রংপুরে ২৫০ কোটি টাকার হাঁড়িভাঙ্গা আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা, জিআই স্বীকৃতির পর বিশ্ববাজারে কদর বাড়ছে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মায়ের ইন্তেকাল: বিভিন্ন মহলের শোক লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী অভিযানে মার্কিন হামলায় নিহত ৫, বিতর্ক চরমে বহর থামিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সকে পথ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তেহরানের শপিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৮ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উত্তাল বিভিন্ন জেলা, গুলিবিদ্ধ পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ২ যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট দিচ্ছে সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় ভরিপ্রতি ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম, কার্যকর আজ থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনের মাতার ইন্তেকাল

তেহরানের শপিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৮

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আন্দিশেহর একটি বিপণিবিতানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) স্থানীয় সময় বিকেলে আরঘাভান শপিং সেন্টারে লাগা এই আগুনে আরও ৩৬ জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির নিরাপত্তা মান ও নির্মাণশৈলী নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।

আন্দিশেহ শহরের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে আরঘাভান শপিং কমপ্লেক্সটিতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনটির বাইরের অংশে ব্যবহৃত প্রলেপ বা আবরণ ছিল অত্যন্ত দাহ্য প্রকৃতির। এই উপাদানের উপস্থিতির কারণেই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পুরো শপিং সেন্টারটি ভস্মীভূত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বহুতল ভবনটিকে গ্রাস করে নিয়েছে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ৩৬ জনের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, যার ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে এবং দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ভবনের ভেতরে অনেক মানুষ আটকা পড়েছিলেন, যাদের নিরাপদে সরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তেহরান প্রাদেশিক প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ হিসেবে ভবনের নির্মাণ ত্রুটি ও দাহ্য উপাদানের ব্যবহারকে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি উন্নয়নকারী সংস্থা বা ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিচার বিভাগীয় সূত্র জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার পেছনে দায়িত্বে অবহেলাকারী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি হুশিয়ারির প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা যখন ঝুঁকির মুখে, ঠিক তখন রাজধানীর উপকণ্ঠে এ ধরনের বড় প্রাণহানি স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় এই বিপর্যয় ইরান সরকারের জন্য নতুন প্রশাসনিক চাপ তৈরি করতে পারে।

আরঘাভান শপিং সেন্টারের এই অগ্নিকাণ্ড ইরানের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০১৭ সালে তেহরানের ঐতিহ্যবাহী প্লাসকো ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় ভবনের নিরাপত্তা বিধিমালার দুর্বলতা জনসমক্ষে এসেছিল। বর্তমান এই ঘটনাটিও প্রমাণ করে যে, বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও দাহ্য উপকরণের ব্যবহার সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পর সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিপণিবিতানগুলোর নিরাপত্তা মান যাচাই করার পরিকল্পনা করছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে সরকার প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026