বাংলাদেশ ডেস্ক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মাতা বেগম জেবুন্নেছা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার ভোররাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সম্প্রতি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যুকালে তিনি সন্তান-সন্ততিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বেগম জেবুন্নেছার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। এছাড়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, মরহুমা বেগম জেবুন্নেছা একজন ধর্মপ্রাণ ও মহীয়সী নারী ছিলেন। শিক্ষকতা পেশায় থাকাকালীন তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন আদর্শ মাতা হিসেবে তিনি তার সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি। একই সাথে তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, মরহুমার জানাজার নামাজ ও দাফনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। ঢাকার নির্ধারিত স্থানে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করার কথা রয়েছে। এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মায়ের মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।
একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে বেগম জেবুন্নেছার অবদান তার কর্মক্ষেত্রে ও স্থানীয় সমাজে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। সন্তানদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার পেছনে তার বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিশিষ্টজনেরা তাকে একজন সফল অভিভাবক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মৃত্যুতে শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, এমন একজন নীতিবান ব্যক্তিত্বের চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি।
আজ দুপুর পর্যন্ত মরহুমার বাসভবন ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শোকাতুর মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জানাজার সময়সূচি ও দাফন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।