আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে কর্মরত মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের (এমএফসি) সদস্য রাষ্ট্রসমূহ বিশ্বব্যাপী সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। রবিবার (৩ মে) এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে জোটটি বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শক্তিশালী করতে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে।
বিবৃতিতে এমএফসি উল্লেখ করে যে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের (Misinformation and Disinformation) ব্যাপক বিস্তার জনমানসে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এই সংকট মোকাবিলায় বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা আগের চেয়ে অনেক বেশি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে গণমাধ্যম অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে বলে জোটটি মত প্রকাশ করে।
এমএফসির কূটনৈতিক নেটওয়ার্কের মতে, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণমাধ্যম ব্যবস্থার জন্য কেবল সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই পরিবেশের প্রধান শর্ত হিসেবে জোটটি তিনটি বিশেষ দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। প্রথমত, একটি সহায়ক আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা, যা সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা দেবে এবং মুক্তভাবে তথ্য সংগ্রহের অধিকার প্রদান করবে। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যমের আর্থিক স্থিতিশীলতা, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে তাদের সম্পাদকীয় নীতিতে আপস না করে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক বা করপোরেট পর্যায়ের যেকোনো ধরনের অযাচিত প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত এমএফসি সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা এ দেশে সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা কেবল সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই নয়, বরং বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথে যেসব আইনি বা পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে এমএফসি তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমএফসির এই বিবৃতি বাংলাদেশের গণমাধ্যম চিত্রের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়ে যখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে, তখন এমএফসির এই অবস্থান নীতিনির্ধারকদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অপতথ্যের বিস্তার রোধে স্বাধীন গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার আহ্বানটি বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৩ মে বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ পালিত হয়। ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এই দিনটিকে স্বীকৃতি দেয়। ইউনেস্কোর সুপারিশক্রমে দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিগুলো উদ্যাপন করা, বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবস্থা মূল্যায়ন করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন বা কারাবরণ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। বাংলাদেশেও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করছে। এমএফসি তাদের বিবৃতিতে সাংবাদিকতার এই বৈশ্বিক লড়াইয়ে বাংলাদেশের অংশীদারদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পথে সকল বাধা অপসারণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছে।