1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার নতুন হার কার্যকর স্বাধীনতার ৫৪ বছর: ফুটবলের আবেগের বাইরে বাংলাদেশ-লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন সারাদেশে সোয়া ৭ কোটির বেশি নাগরিক পেলেন স্মার্টকার্ড নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সম্পন্ন, দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও একজনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে ৫ হাজার আনসার সদস্য অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অভিযান নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে আন্তর্জাতিক সমালোচনা তীব্র

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ৫৩ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে চলমান নৌ অবরোধ ও সামরিক অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে মার্কিন নৌবাহিনী কার্যত ‘জলদস্যুর মতো আচরণ’ করছে, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী একটি জাহাজ জব্দ করেছে এবং তাতে থাকা পণ্য ও তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা জাহাজটি দখল করেছি, পণ্য নিয়েছি, তেল নিয়েছি। এটা লাভজনক একটি কার্যক্রম। আমরা যেন জলদস্যুর মতো, তবে আমরা কোনো খেলা খেলছি না।” এই মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরানের বন্দর ত্যাগ করা একাধিক জাহাজ—বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী ট্যাংকার ও কনটেইনার জাহাজ—বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপকে তারা ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে আসছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার জন্য প্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি ঘিরে কৌশলগত অবস্থান জোরদার করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর দেশটি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিজেদের জাহাজ ছাড়া প্রায় সব ধরনের নৌযান চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে বিবেচিত, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা।

এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দর ও সংলগ্ন নৌপথে পৃথক অবরোধ আরোপ করে। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও প্রভাবিত করছে।

চলমান উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা চালায়। ওই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথকে ঘিরে যেকোনো অস্থিতিশীলতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে। ইতোমধ্যে কাঁচা তেলের দামে ওঠানামা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই সামরিক নীতি ও সংঘাত নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের অবস্থান ও বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে তাঁর কঠোর ভাষা এবং গত মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস’ করার হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি এবং সমুদ্রপথে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। এমন কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তাঁরা মত দিয়েছেন।

পরিস্থিতি যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও এই সংকটের প্রভাবে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026