1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৮: অন্ধকারে ৪ শিশুর ভবিষ্যৎ ছেলের হাতে ড্রাম স্টিক: জেমসের পুত্র জিবরান আনামের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ময়মনসিংহে পাওনা ৫০০ টাকাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধা নূরজাহান হত্যাকাণ্ড: গ্রেপ্তার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকারের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকারের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাচ্ছে গ্রেটা গারউইগের ‘নার্নিয়া’ ১৬ মে চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে কভার্ডভ্যান চাপায় শিশুর মৃত্যু ডিবি কার্যালয়ে সোর্স জালাল হত্যা: ২ পুলিশসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা বলয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই পদক্ষেপকে অনেকটা ‘প্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করলেও সামরিক জোট ন্যাটো এবং ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে এর প্রভাব নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিস্টোরিয়াস উল্লেখ করেন, ইউরোপ বিশেষ করে জার্মানিতে মার্কিন সেনাদের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থেই অপরিহার্য ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোকে এখন থেকে নিজেদের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণে আরও বেশি সচেষ্ট হতে হবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ইউরোপ মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক উপস্থিতি। এর বাইরে ইতালিতে ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রত্যাহৃত সেনার সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও বেশি হতে পারে, তবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রদান করেননি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সেনা প্রত্যাহারের নেপথ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিক মের্ৎসের মধ্যকার সাম্প্রতিক নীতিগত বিরোধ প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে ইরান সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে চ্যান্সেলর মের্ৎসের সমালোচনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। মের্ৎস সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে ‘অপদস্থ’ হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের কোনো সুস্পষ্ট রণকৌশল নেই। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জার্মান চ্যান্সেলরের সমালোচনা করেন এবং দ্রুতই সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

এদিকে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট জানিয়েছেন, জোটের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিশেষ করে পোল্যান্ড এই সিদ্ধান্তে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জোটের অভ্যন্তরীণ ভাঙন শত্রু রাষ্ট্রের চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে। রিপাবলিকান দলের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা সিনেটর রজার উইকার এবং প্রতিনিধি মাইক রজার্স এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইউরোপে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই জরুরি।

উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর রোমানিয়া থেকেও সেনা প্রত্যাহার করেছিল। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক মনোযোগ বৃদ্ধির কৌশলের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মিত্র দেশগুলো একে ন্যাটোর কার্যকারিতা হ্রাসের লক্ষণ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, জার্মানি তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ইতিমধ্যে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০২৭ সাল নাগাদ জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে, যার মধ্যে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। জার্মানি থেকে এই সেনা প্রত্যাহার সেই ধারাবাহিক অসন্তোষেরই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনগুলোতে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026