বিনোদন ডেস্ক
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের সারে শহরে প্রখ্যাত ভারতীয় কৌতুক অভিনেতা কপিল শর্মার মালিকানাধীন একটি ক্যাফের পাশে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় গত রাতে ‘চাই সুট্টা বার’ নামক একটি ক্যাফে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। উক্ত ক্যাফেটি কপিল শর্মার মালিকানাধীন ‘ক্যাপস ক্যাফে’র ঠিক পাশেই অবস্থিত। এই ঘটনার পরপরই বিতর্কিত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার এবং একই সঙ্গে কপিল শর্মা ও সংশ্লিষ্ট ক্যাফে মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারে শহরের জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এই ক্যাফেটি লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালানো হয়। ঘটনার সময় ক্যাফেতে উপস্থিত গ্রাহক ও কর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অন্তত ২৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার পরপরই সারে শহরের রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে।
হামলার কিছুক্ষণ পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ‘টাইসন বিষ্ণোই জোরা সিন্ধু’ নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। উক্ত পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অমান্য করার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, তাদের কথা মেনে না চললে কপিল শর্মার ক্যাফের পরিণতিও একই হবে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের সত্যতা কিংবা বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
কানাডায় কপিল শর্মার এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটি বারবার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ক্যাফেটি উদ্বোধনের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় খলিস্তানি সমর্থক গোষ্ঠী সেখানে হামলা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাই, আগস্ট এবং অক্টোবর মাসে ধারাবাহিকভাবে তিনবার এই ক্যাফে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যার প্রতিটিতেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম জড়িয়েছিল। গত এক বছরে চারবারের মতো একই ধরনের হামলার শিকার হওয়ায় ওই এলাকায় কর্মরত অভিবাসী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কানাডার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সারে শহরের নিরাপত্তা টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বিতর্কিত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অনুসারীদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং বর্তমানে ভারত ও উত্তর আমেরিকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি প্রদানের মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনায় আসছে।
এই নজিরবিহীন হামলার প্রেক্ষাপটে কানাডার স্থানীয় প্রবাসী ও ব্যবসায়িক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বারবার একই ধরনের অপরাধ সংগঠিত হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী কোনো সমাধান না আসায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর কানাডায় সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়া কেবল প্রবাসী ব্যবসায়ীদের জন্যই নয়, বরং দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।