আবহাওয়া ডেস্ক
দেশের ১১টি জেলার ওপর দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার আবহাওয়া অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এই সতর্কবার্তা জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য এই পূর্বাভাস কার্যকর থাকবে। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ুর প্রাক-প্রস্তুতি এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে এ ধরনের আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও নদীপ্রধান জেলাগুলোতে বাতাসের গতিবেগ সাধারণের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নৌযান চলাচল এবং নদীপথের যাত্রীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছোট আকারের লঞ্চ বা ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোকে আবহাওয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের তাপমাত্রা কিছুটা অস্থিতিশীল থাকলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া বাতাস ছোট নৌযানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে মেঘনার মোহনা এবং উপকূলীয় দ্বীপ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বাতাসের তীব্রতা বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বজ্রবৃষ্টির সময় সাধারণ মানুষকে খোলা জায়গায় না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ চমকানোর সময় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্কতা এবং বড় গাছের নিচে অবস্থান না করার বিষয়েও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বারবার গুরুত্বারোপ করছেন।
নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট এলাকাটি ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এটি বড় কোনো বিপদের সংকেত নয়, তবুও নৌযান চালকদের সতর্ক থাকা বাধ্যতামূলক যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে পরবর্তী বুলেটিনের মাধ্যমে নতুন তথ্য সরবরাহ করা হবে। উপকূলীয় জনপদগুলোতে বৃষ্টির ফলে সাময়িকভাবে ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি মিললেও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে কৃষি বা জানমালের সামান্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।