বিশেষ প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শনিবার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের এই সম্মেলনে সরকারের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে পদব্রজে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রবেশ করেন এবং এর কিছুক্ষণ পরই সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আগামী ৬ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে দেশের আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নিচ্ছেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মাঠ প্রশাসন থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি গত ২ মে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্য থেকে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে ৪৯৮টি প্রস্তাব এবারের মূল কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সংক্রান্ত, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে মাঠ প্রশাসনের বিশেষ গুরুত্বকে নির্দেশ করে। চার দিনের এই সম্মেলনে সর্বমোট ৩৪টি কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনের ব্যাপ্তি ও গুরুত্ব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসকরা মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো এই সম্মেলনে প্রাধান্য পায়। এবারের সম্মেলনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সাথে জেলা প্রশাসকদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক সম্মেলনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা সম্মেলন চলাকালে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। রাষ্ট্রের এই শীর্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তারা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও বিচারিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে জনসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন। এছাড়াও মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের সাথে ডিসিদের পৃথক কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসি সম্মেলন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি কেন্দ্র ও তৃণমূলের প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের যে প্রস্তাবগুলো এবার কার্যপত্রে স্থান পেয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজতর হবে। আগামী ৬ মে সমাপনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে, যেখানে সম্মেলনের অর্জন এবং গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা তুলে ধরা হতে পারে।