ক্রীড়া প্রতিবেদক
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের দুই ম্যাচের সিরিজ খেলতে রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের একাংশ। আজ সকালে প্রথম ভাগে ঢাকায় পা রাখা এই প্রতিনিধি দলের পর সিরিজের বাকি সদস্যরাও দ্রুতই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চূড়ান্ত পর্বের কারণে ক্রিকেটাররা কয়েক দফায় বাংলাদেশে আসছেন।
দুই ম্যাচের এই সিরিজে পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শান মাসুদ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে টিকে থাকতে উভয় দলের জন্যই এই সিরিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৮ মে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দ্বিপাক্ষিক এই লড়াই। এরপর ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচ।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আগেই এই সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। ঘোষিত এই দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাদের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশটির নির্বাচকেরা। স্কোয়াডে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন চারজন নতুন মুখ— আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস এবং মুহাম্মদ গাজী ঘোরি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তান দলে বাবর আজম, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো তারকাদের উপস্থিতি দলটির শক্তিমত্তার জানান দিচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মন্থর ও স্পিন সহায়ক পিচে পাকিস্তানের নোমান আলী ও সাজিদ খানের মতো স্পিনাররা বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন। অন্যদিকে হাসান আলী ও খুররম শহজাদের মতো পেসাররা কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগাতে মুখিয়ে থাকবেন। শান মাসুদের নেতৃত্বে দলটি বাংলাদেশে আসার পর দ্রুতই অনুশীলনে নামবে বলে বিসিবি সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ সফরের জন্য ঘোষিত পাকিস্তান টেস্ট স্কোয়াড: শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম, শাহীন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, হাসান আলী, ইমাম-উল-হক, খুররম শহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি (উইকেটকিপার), নোমান আলী, সাজিদ খান, সালমান আলী আগা ও সৌদ শাকিল।
২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের শুরুতে এই হোম সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি পাকিস্তানের জন্য বিদেশের মাটিতে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ। মিরপুরের চেনা কন্ডিশনে বাংলাদেশ দল বরাবরই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়। ফলে মাঠের লড়াই বেশ জমজমাট হবে বলেই প্রত্যাশা ক্রিকেট প্রেমীদের। সিরিজের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রথম টেস্ট শুরুর আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মিরপুরে কয়েক দিন নিবিড় অনুশীলনের সুযোগ পাবে সফরকারী দল।