অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১ হাজার ৭৩০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিহিত মূল্যের বিপরীতে প্রতি শেয়ারে ১৭৩ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন। রোববার (৩ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটির গত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশের পাশাপাশি এই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বা ইপিএস গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১৭২ টাকা ৯৩ পয়সা, যা আগের ২০২৪ হিসাব বছরে ছিল ১৫৯ টাকা ১৭ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ প্রদানের হার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ৩ হাজার ৩০০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ৩৩৩ টাকা নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছিল। সেই তুলনায় এবার লভ্যাংশের হার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটি আগামী জুন মাসে বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আহ্বান করেছে। এ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি মে মাসের শেষার্ধে। রেকর্ড ডেটের দিন যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে কোম্পানির শেয়ার থাকবে, কেবল তারাই এই লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮৭ টাকা ৫৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১৭৬ টাকা ৫৯ পয়সা।
একই দিনে কোম্পানিটি চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক মুনাফায় নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রেকিট বেনকিজারের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২৩ টাকা ২৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩২ টাকা ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ২১০ টাকা ৮৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বহুজাতিক কোম্পানি হিসেবে রেকিট বেনকিজার বরাবরই উচ্চহারে লভ্যাংশ প্রদানের জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয়। তবে এবারের লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশের হার কমানোর বিষয়টি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফায় বড় ধরনের পতন ভবিষ্যতে লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেয়ারপ্রতি লভ্যাংশ প্রদানের দিক থেকে রেকিট বেনকিজার অন্যতম শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদনের বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত এই কোম্পানিটি ১৯৮৭ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে এর পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৮২ দশমিক ৯৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।