আইন আদালত ডেস্ক
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা সাত মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপার জামিন আদেশের দিন পুনরায় পিছিয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ১১ মে পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেছেন। শুনানিকালে তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই দম্পতির জামিন সংক্রান্ত ১৩টি আবেদনের ওপর আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। তবে কার্যক্রমের শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষ তদন্ত শেষ করার জন্য আরও সময় প্রার্থনা করলে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুনানির এক পর্যায়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, “এভাবে আর কতদিন সময় নেবেন আপনারা? অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে আমাদের জানান।”
আদালতের এমন পর্যবেক্ষণের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরবর্তীতে তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, মামলাগুলোর তদন্ত কর্মকর্তারা বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন এবং অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আরও সময়ের প্রয়োজন। উভয় পক্ষের শুনানি ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য আমলে নিয়ে আদালত ১১ মে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন পুনঃনির্ধারণ করেন।
আদালতে জামিন আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আশিকুজ্জামান নজরুল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলামিন।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা সাতটি মামলায় এই সাংবাদিক দম্পতির জামিন আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি সম্পন্ন হয়েছিল। আদালত ওই দিন শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন (২৮ এপ্রিল) ধার্য করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের কারণে প্রক্রিয়াটি আরও দীর্ঘায়িত হলো।
মামলার বিবরণ ও পটভূমি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে আটক করে। শাকিল আহমেদ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের হেড অব নিউজ এবং ফারজানা রুপা একই চ্যানেলের প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আটকের পরদিন অর্থাৎ ২২ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা ফজলুল করিম হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত ওই মামলায় তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরবর্তীতে ২৬ আগস্ট আদাবর থানায় দায়ের করা গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় এই দম্পতিকে পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ৩১ আগস্ট তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। বর্তমানে তারা বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় আছেন। তাদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের আন্দোলনে সহিংসতা ও হত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, গত কয়েক মাসে বিভিন্ন থানায় এই সাংবাদিক দম্পতির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা, আদাবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা সাতটি মামলায় তারা হাইকোর্টে জামিন প্রার্থনা করেছেন। মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীদের একাংশ এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করছে যে, জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে, যার জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। ১১ মে হাইকোর্টের আদেশের ওপরই নির্ভর করছে এই আলোচিত সাংবাদিক দম্পতির কারামুক্তির বিষয়টি।