সারাদেশ ডেস্ক
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ওজোন স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি কাভার্ড ভ্যান সামনে থাকা বিটুমিনবাহী একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে এক শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওয়ামুখী একটি ছোট কাভার্ড ভ্যান দ্রুতগতিতে চলার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এসময় গাড়িটি ওজোন স্টেশনের প্রবেশমুখে থাকা একটি বিটুমিনবাহী ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ড ভ্যানটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, গভীর রাতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আমরা বিধ্বস্ত কাভার্ড ভ্যানটি থেকে আহত চারজনকে উদ্ধার করি। আহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন সদস্য রয়েছেন। উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরও যোগ করেন, আহতদের মধ্যে একটি শিশুর আঘাত অত্যন্ত গুরুতর, যার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার পর এক্সপ্রেসওয়ের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সড়কের ওপর অবস্থান করায় ঢাকাগামী ও মাওয়ামুখী লেনে ধীরগতি তৈরি হয়। পরবর্তীকালে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গাড়ি দুটি সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। হাইওয়ে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চালকের ক্লান্তি বা অসতর্কতার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে রাতের বেলা দ্রুতগতির কারণে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার চালকদের গতিসীমা মেনে চলার নির্দেশনা দিলেও অনেক ক্ষেত্রে তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ওজোন স্টেশন বা ইন্টারচেঞ্জ এলাকাগুলোতে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ না করায় সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিটুমিনবাহী গাড়ি ও কাভার্ড ভ্যানটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।