খেলাধূলা ডেস্ক
আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন পর্তুগালের অন্যতম তারকা মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ। পর্তুগিজ অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং এই কিংবদন্তির হাতে অধরা শিরোপাটি তুলে দিতে উন্মুখ হয়ে আছে পুরো দল। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রায় সব অর্জনের দেখা পেলেও ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর ঝুলিতে এখনো কোনো বিশ্বকাপ শিরোপা নেই। ব্রুনোর মতে, এই টুর্নামেন্ট জয় হবে ফুটবলে রোনালদোর অসামান্য অবদানের প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি।
রোনালদো বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই মহাতারকা ২০২৬ সালে নিজের ক্যারিয়ারের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। ফুটবলের ইতিহাসে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার এই গৌরবময় মাইলফলক এখন পর্যন্ত আর কোনো ফুটবলারের নেই। তবে বর্ণাঢ্য এই ক্যারিয়ারে কেবল ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফিটিই তার কাছে অধরা রয়ে গেছে। ২০১৬ সালে পর্তুগালের হয়ে উয়েফা ইউরো এবং পরবর্তীতে নেশন্স লিগ জিতলেও বৈশ্বিক আসরে রোনালদোর সেরা সাফল্য ২০০৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল।
ব্রুনো ফার্নান্দেজ এক সাক্ষাৎকারে সতীর্থের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, পর্তুগাল দলের সবার লক্ষ্য এবার শিরোপা জিতে রোনালদোকে রাজসিক বিদায় জানানো। তিনি বিশ্বাস করেন, রোনালদোর মতো একজন ফুটবলার যিনি বছরের পর বছর বিশ্ব ফুটবলকে বিনোদিত করেছেন এবং অসংখ্য রেকর্ড ভেঙেছেন, তার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ট্রফি জয়ের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। এটি কেবল পর্তুগালের জন্য একটি অর্জন হবে না, বরং পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হবে। ফার্নান্দেজ জোর দিয়ে বলেন, দল হিসেবে তারা রোনালদোর এই অপূর্ণতা ঘোচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। এই আসরে পর্তুগাল খেলবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি গ্রুপে। ১৭ জুন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগিজদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর ২৩ জুন তারা উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৭ জুন শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিপক্ষে লড়াই করবে পর্তুগাল। ১৬টি ভেন্যুতে ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে এবারের বর্ধিত কলেবরের বিশ্বকাপ ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৪১ বছর বয়সেও রোনালদোর ফিটনেস এবং গোল করার দক্ষতা পর্তুগাল দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তবে বয়সের ভারে এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। ফলে পর্তুগিজ শিবিরে আবেগ ও পেশাদারত্বের এক সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভাদের মতো বর্তমান সময়ের সেরা ফুটবলাররা মনে করেন, রোনালদোকে সামনে রেখে তাদের এই সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারে পর্তুগালকে প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের স্বাদ এনে দিতে। শেষ পর্যন্ত রোনালদো তার ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে সোনালী ট্রফিটি স্পর্শ করতে পারেন কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।