1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার নতুন হার কার্যকর স্বাধীনতার ৫৪ বছর: ফুটবলের আবেগের বাইরে বাংলাদেশ-লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন সারাদেশে সোয়া ৭ কোটির বেশি নাগরিক পেলেন স্মার্টকার্ড নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সম্পন্ন, দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও একজনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে ৫ হাজার আনসার সদস্য অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বে ৩৭ লাখ ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৫ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ডিজিটাল মুদ্রার (ক্রিপ্টোকারেন্সি) মাধ্যমে সংঘটিত বড় ধরনের একটি জালিয়াতি চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে। এই অংশীদারিত্বের ফলে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০ কোটি টাকারও বেশি, উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই ডিজিটাল মুদ্রা পুনরুদ্ধারের সবথেকে বড় ঘটনা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুই দেশের ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক ও কারিগরি সহযোগিতার ফলে সাইবার অপরাধ দমনে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্লকচেইন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ওকেএক্স’ (OKX) এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, একটি আন্তর্জাতিক চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। জালিয়াতির শিকার ব্যক্তিরা অভিযোগ করার পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেন সাধারণত জটিল ও বেনামী হওয়ায় এটি শনাক্ত করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই পর্যায়ে মার্কিন দূতাবাস এবং এফবিআইসহ দেশটির সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লকচেইন প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে অপরাধীরা সাধারণত তাদের অবস্থান ও অর্থের উৎস গোপন রাখার চেষ্টা করে। তবে ওকেএক্সের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের ডেটা বিশ্লেষণ এবং মার্কিন প্রশিক্ষকদের দেওয়া ‘ক্রিপ্টো ট্র্যাকিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে লেনদেনের উৎস ও গন্তব্য খুঁজে পেতে সক্ষম হয় বাংলাদেশি তদন্তকারীরা। উদ্ধারকৃত ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল মুদ্রাটি ইতোমধ্যে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মার্কিন দূতাবাস তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, সাইবার জগতকে নিরাপদ রাখতে এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করছে। এই সফল উদ্ধার অভিযান উভয় দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল লেনদেন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার প্রতারণার ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষ করে অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং এবং অনলাইনে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে আন্তর্জাতিক চক্রগুলো। এই ধরনের বড় মাপের অর্থ পুনরুদ্ধার কেবল ভুক্তভোগীদের স্বস্তিই দেবে না, বরং ডিজিটাল অপরাধীদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

এই অভিযানের সাফল্য ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জটিল সাইবার অপরাধ দমনে বৈশ্বিক মানদণ্ড অর্জনে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অপরাধের ধরণ পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে তথ্য আদান-প্রদান বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম দমনে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026