রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে নতুন মেরুকরণের পথে হাঁটছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এই যোগদানের মাধ্যমে এনসিপি তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে এনসিপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার। তার সঙ্গে আরও যোগ দিয়েছেন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা, গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মহিউদ্দিন রনি, বিশিষ্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং বাংলাদেশ জনতা পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান সোহেল। নবীন ও অভিজ্ঞদের এই সংমিশ্রণকে দলের জন্য নতুন শক্তি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা বরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। যোগ দেওয়া চারজন সদস্য মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও ফেরসামিন হক ইকবাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে দলের আদর্শের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এনসিপির ছায়াতলে দেশের সাধারণ মানুষ ক্রমান্বয়ে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন যোগদানকারীদের দেশবাসীর সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে সরকার কেবল ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। তিনি অবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। তার মতে, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বের জয়জয়কার হবে এবং এনসিপি সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবে। ইসহাক সরকারের যোগদান প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক এই নেতার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এনসিপিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সাবেক নেতা ইসহাক সরকার এবং রাজপথের পরিচিত মুখ মহিউদ্দিন রনির মতো ব্যক্তিদের এনসিপিতে অন্তর্ভুক্তি দলটির সাংগঠনিক কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে বড় দলগুলো থেকে আসা নেতাদের কারণে এনসিপির জনসমর্থন বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতিতে তারা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হতে পারে। একই সাথে শেরেবাংলার উত্তরসূরির অন্তর্ভুক্তি দলটিকে একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি প্রদানের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, এনসিপির এই যোগদান কর্মসূচি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দলটি আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী বড় ধরনের জনমত গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে এনসিপির এই ভূমিকা আগামী দিনের রাজনীতিতে কতটুকু প্রভাব ফেলে, তাই এখন দেখার বিষয়।