1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
অভিনয়শিল্পী নিলয় আলমগীরের প্রিয় পোষ্য প্রাণীর মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বে ৩৭ লাখ ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ের ভক্তকে সম্মান ও নতুন সিনেমার প্রস্তুতি ঘিরে বৈশ্বিক আলোচনা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অভিযানে ২২ জন নিহত, প্রাণ হারাল এক শিশু ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে সৃষ্ট বিশ্ব পরিস্থিতি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: নজরুল ইসলাম খান ক্যাম্পাসগুলোতে দখলদারির রাজনীতির বিপরীতে মেধাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি চালুর আহ্বান আসিফ মাহমুদের এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকারসহ ৫ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ ও জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকি ঘোষণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় বিচার বিভাগে শুদ্ধি অভিযান ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ ও জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকি ঘোষণা

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ ও জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকি ঘোষণা
একদিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ৫ যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতিকে জাতীয় পর্যায়ে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি। বিপুলসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়া এবং টিকাদানে ঘাটতির ফলে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা কমে যাওয়াকে এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ২ হাজার ৯৭৩ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৬ জনের, যার মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে দেশে হামজনিত মৃত্যুর হার প্রায় ১.১ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের আটটি বিভাগেই হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যেখানে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৩। বিশেষ করে ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকা যেমন— ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে সংক্রমণের তীব্রতা বেশি দেখা যাচ্ছে। এর বাইরে রাজশাহী বিভাগে ৩ হাজার ৭৪৭ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ হাজার ৫১৪ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৯১ শতাংশই ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের হার ৭৯ শতাংশ এবং ৩৩ শতাংশই নয় মাসের কম বয়সী। মূলত যারা টিকা নেয়নি বা মাত্র এক ডোজ টিকা পেয়েছে, তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, দেশে হাম নির্মূলের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শিথিলতার কারণে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে টিকার প্রথম ডোজের কভারেজ ৮৯ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ড্রপলেটের মাধ্যমেও এটি দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উচ্চ জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। যথাযথ চিকিৎসা না পেলে এটি নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ), অন্ধত্ব এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যেই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আক্রান্তদের নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, বাংলাদেশ একটি আন্তর্জাতিক যাতায়াত কেন্দ্র হওয়ায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ব্যস্ত সীমান্ত থাকায় এই সংক্রমণ আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে মানুষের অবাধ যাতায়াত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সংস্থাটি সব পৌর এলাকায় টিকার কভারেজ অন্তত ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা এবং টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026