বিশেষ প্রতিবেদক
ছাত্রলীগের অনুসৃত দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি রোধে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসগুলোতে যে ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছিল, তা আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আসিফ মাহমুদ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্যে গত কয়েক দশকে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠন যেভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তার ক্ষত এখনো শুকায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, মেধা ও যোগ্যতার রাজনীতির পরিবর্তে যদি আবারও সন্ত্রাস এবং দখলদারির রাজনীতি ফিরে আসে, তবে তা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের পরিপন্থী হবে। এই লড়াইকে দীর্ঘমেয়াদী উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের সারা দেশে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির তাগিদ দেন।
দলের সাংগঠনিক বিস্তার প্রসঙ্গে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, সমাজের গ্রহণযোগ্য এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে। যারা বিগত আমলের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কিংবা কোনো ধরনের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল না, তাদের জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই একটি টেকসই রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আসিফ মাহমুদ দলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেন। তিনি জানান, এনসিপি তৃণমূল পর্যায়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। জনগণের যে সমর্থন বর্তমানে দলের প্রতি রয়েছে, তাকে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটে রূপান্তর করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। তিনি মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে জাতীয় রাজনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর্যালোচনায় আসিফ মাহমুদ অন্যান্য বৃহৎ রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো কোনো বৃহৎ দল বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আদর্শিক পথ অনুসরণ করছে। বিশেষ করে সংবিধান ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাদের অবস্থানকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের মধ্যে গুণগত পার্থক্য না থাকলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ বাধাগ্রস্ত হবে।
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে রাজপথে ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।