বিনোদন ডেস্ক
বিশ্বখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে বর্তমানে দুটি ভিন্ন কারণে আন্তর্জাতিক বিনোদন অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। একদিকে তার কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা’-এর বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল নির্মাণের ঘোষণা এবং অন্যদিকে সম্প্রতি এক ভক্তের কাছ থেকে পাওয়া বিশেষ উপহারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এক ভক্ত অ্যান হ্যাথাওয়েকে পবিত্র কুরআন শরীফ উপহার প্রদান করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভক্ত জানান, ইতিপূর্বে একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীকে ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটি ব্যবহার করতে দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং সেই শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই উপহারটি প্রদান করেছেন। উপহার গ্রহণের সময় অভিনেত্রীর আন্তরিক ও হাসিখুশি আচরণ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি তার সংবেদনশীলতার পরিচয় হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ‘পিপলস ম্যাগাজিন’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করতে গিয়ে অ্যান হ্যাথাওয়ে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন। আরবি এই শব্দের যথাযথ প্রয়োগ এবং তার মার্জিত দৃষ্টিভঙ্গি সে সময় থেকেই দর্শকদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনপ্রিয় একজন তারকার এমন সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনমূলক আচরণ বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে সংহতির বার্তা প্রদান করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও আচরণের পাশাপাশি পেশাগত কারণেও হ্যাথাওয়ে এখন খবরের শিরোনামে। ২০০৬ সালের ব্যবসাফল চলচ্চিত্র ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা’-এর দ্বিতীয় কিস্তি নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মূল সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় করে ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এর সিক্যুয়েল নির্মাণের খবরে দর্শকদের মাঝে প্রবল আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী ১ মে মুক্তি পেতে যাওয়া এই নতুন চলচ্চিত্রে মূল পর্বের কেন্দ্রীয় অভিনয়শিল্পী মেরিল স্ট্রিপ, অ্যান হ্যাথাওয়ে, এমিলি ব্লান্ট এবং স্ট্যানলি টুচিকে পুনরায় একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে। তবে পূর্ববর্তী সিনেমার জনপ্রিয় চরিত্র অ্যাড্রিয়ান গ্রেনিয়ার এবারের পর্বে থাকছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নতুন কাস্টে যুক্ত হয়েছেন কেনেথ ব্রানাঘ, সিমোন অ্যাশলে, লুসি লিউ এবং লেডি গাগার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা।
সিনেমাটির নির্মাণশৈলী অটুট রাখতে আগের পরিচালক ডেভিড ফ্র্যাঙ্কেল, চিত্রনাট্যকার অ্যালিন ব্রশ ম্যাককেনা এবং প্রযোজক ওয়েন্ডি ফাইনারম্যান আবারও একত্রিত হয়েছেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল সিনেমার সিক্যুয়েল তৈরির ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান থাকলেও গল্পের প্রাসঙ্গিকতা এবং তারকাদের উপস্থিতির কারণে এটি বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে মানবিক আচরণ এবং ক্যারিয়ারের বড় মাইলফলক—উভয় দিক থেকেই অ্যান হ্যাথাওয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।