জাতীয় ডেস্ক
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করতে এবং সামাজিক সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী জুলাই মাস থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম মাসে প্রায় এক লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর হাতে পাটের ব্যাগ ও ইউনিফর্ম তুলে দেওয়া হবে।
সরকারি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি উপজেলার দুটি করে বিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। সরকার মূলত তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রান্তিক এলাকায় একই ধরনের পোশাক ও ব্যাগ পৌঁছে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো বৈষম্য না রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা দেশীয় পণ্যের প্রসারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাই। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করা। ধনী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যমান দৃশ্যমান পার্থক্য কমিয়ে আনতে আমরা একদম প্রথম শ্রেণি থেকেই এই সমতাকামী উদ্যোগ শুরু করতে যাচ্ছি।”
এই প্রকল্পের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে জানানো হয়, প্লাস্টিক বা পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শৈশব থেকেই যেন শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে অভ্যস্ত হয় এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে পাটের সোনালী ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধার করতে কোমলমতি শিশুদের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক বার্তা সমাজ তথা বিশ্বকে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন দেশীয় পাট শিল্পের পুনর্জাগরণ ঘটবে, অন্যদিকে স্থানীয় পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদী ভিশন বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি মানসম্মত ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষা উপকরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। জুলাই মাস থেকে এই বিতরণ কার্যক্রম দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে এবং পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।