1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাটের ব্যাগ ও ইউনিফর্ম দিচ্ছে সরকার: জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে পাইলট প্রকল্প সৌদি আরব থেকে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, মে মাসের শুরুতে পৌঁছাবে চট্টগ্রাম বন্দরে রূপকথার সমাপ্তি: তৃতীয় স্তরে অবনমন লিস্টার সিটির সফটওয়্যারে ভূমির শতভাগ নির্ভুল তথ্য সন্নিবেশের মাধ্যমে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এখন থেকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সামরিক সম্মেলন ফ্লোরিডায় গোলাগুলির ঘটনায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু যুক্তরাজ্যে আগামী প্রজন্মের জন্য তামাকজাত পণ্য ক্রয় নিষিদ্ধে পাস হলো ঐতিহাসিক বিল রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি: ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে ৯৮ হাজার কোটি টাকা এস আলম গ্রুপের ঋণের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি: অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যে আগামী প্রজন্মের জন্য তামাকজাত পণ্য ক্রয় নিষিদ্ধে পাস হলো ঐতিহাসিক বিল

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে দেশটির সংসদে ‘টোব্যাকো অ্যান্ড ভেপস বিল’ পাস হয়েছে। ব্রিটিশ সংসদের উভয় কক্ষে বিলটি অনুমোদিত হওয়ার মাধ্যমে ১৭ বছর বা তার কম বয়সীদের কাছে তামাক বিক্রির পথ চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এই পদক্ষেপকে ‘জাতির স্বাস্থ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মূলত একটি ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম তৈরি এবং জনস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

গৃহীত এই নতুন আইনের প্রধান লক্ষ্য হলো ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারির পরে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছে সিগারেট বা তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা। বর্তমানে যাদের বয়স ১৭ বছর বা তার কম, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেও বৈধভাবে কখনোই তামাকজাত পণ্য ক্রয় করতে পারবেন না। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর দেশটিতে ধূমপানকারীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে শূন্যে নেমে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই আইন কার্যকর হলে তামাকের আজীবন আসক্তি এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

বিলে কেবল তামাক নয়, বরং ভেইপিং বা ইলেকট্রনিক সিগারেটের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তামাক ও ভেইপ বিলটি রাজকীয় অনুমোদন পাওয়ার পর সরকার শিশুদের খেলার মাঠ, স্কুল এবং হাসপাতালের সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করার পূর্ণ ক্ষমতা পাবে। এ ছাড়া তরুণদের আকৃষ্ট করে এমন ভেইপের সুনির্দিষ্ট স্বাদ (ফ্লেভার) এবং রঙিন প্যাকেজিংয়ের ব্যবহার সীমিত করার বিধান রাখা হয়েছে। যেসব স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ, সেখানে ভেইপিংও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসে লেবার সরকার ডিসপোজেবল ভেইপ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যা মূলত সস্তা ও আকর্ষণীয় মোড়কের কারণে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস (NHS)-এর তথ্যমতে, ইংল্যান্ডে প্রতি বছর তামাকজনিত অসুস্থতায় প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। দেশটিতে মোট মৃত্যুর প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্য দায়ী এই ধূমপান। নতুন এই আইন বাস্তবায়িত হলে ক্যানসার, হৃদরোগ এবং ফুসফুসের জটিলতাসহ তামাকজনিত বিভিন্ন রোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের ওপর থেকে বিশাল অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ধূমপান নির্মূলে এমন পদক্ষেপের নজির আগে দেখা গেলেও তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ড বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ২০০৮ সালের পরে জন্মগ্রহণকারীদের কাছে সিগারেট বিক্রি নিষিদ্ধ করে অনুরূপ আইন প্রণয়ন করেছিল। তবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে দেশটিতে নবনির্বাচিত রক্ষণশীল জোট সরকার রাজস্ব আদায়ের যুক্তিতে সেই আইনটি বাতিল করে দেয়। অন্যদিকে, গত বছরের নভেম্বরে মালদ্বীপও ২০০৭ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের জন্য তামাকজাত পণ্য ক্রয় নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই বিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের লড়াইয়ে এটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। ব্রিটিশ সরকার এই বিলের মাধ্যমে তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপণন কৌশলের চেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। আইনটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাজ্য বিশ্বের অন্যতম প্রধান তামাকমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026