1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
নেদারল্যান্ডস রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াত আমিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ টিসিবির পণ্য ক্রয়ে ৮ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা: বাজার স্থিতিশীল রাখতে নতুন উদ্যোগ রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে এক দিনে গ্রেফতার ৫০১ রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা ওয়াসার কর্মচারী শামীম নিহত মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় পিছাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৩.৬৫ লাখ মেট্রিক টন সার ও দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন লর্ডস টেস্টের স্কোয়াড থেকে ব্রাইডন কার্স বাদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ফোনালাপ ও তেহরান সফর রাজধানীর কলাবাগান থানায় নটর ডেম কলেজের সাবেক শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার খেলার মাঠের বাইরে ইউরোপীয় ফুটবলের করপোরেট লড়াই ও ব্র্যান্ড মূল্যের শীর্ষস্থান

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি: ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে ৯৮ হাজার কোটি টাকা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৮ বার দেখা হয়েছে

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে রাজস্ব আদায়ের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘাটতির পরিমাণ গত পুরো অর্থবছরের রেকর্ড ঘাটতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। রাজস্ব আহরণে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও বিশাল লক্ষ্যমাত্রা এবং মন্থর গতির অর্থনীতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এনবিআরের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আয়কর, আমদানি শুল্ক ও মূসক (ভ্যাট) খাত থেকে মোট দুই লাখ ৮৭ হাজার ৬৬২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। অথচ এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা, যা তৎকালীন সময়ে একটি রেকর্ড ছিল। বর্তমান অর্থবছরের মাত্র তিন প্রান্তিক শেষ হতেই সেই রেকর্ড ভেঙে ঘাটতির পরিমাণ ৫ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা বেড়ে গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে গত মার্চ মাসেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি। এ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব সংগৃহীত হয়েছে। গত বছরের মার্চের তুলনায় এ বছরের মার্চে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তিন প্রধান খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছে আয়কর খাত। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে এই খাতে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৮ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ খাতে ঘাটতির পরিমাণ ৪০ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা।

মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাতেও বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এই খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে কাস্টমস শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। এ খাতে ঘাটতি ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আদায়ের বর্তমান চিত্র অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে জানান, বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। করদাতার দেওয়া অর্থ এবং সরকারি কোষাগারে জমা হওয়া অর্থের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে হবে। রাজস্ব বাড়াতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণসহ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এছাড়া করজাল সম্প্রসারণ এবং উত্তরাধিকার সম্পত্তি বা সম্পদ করের মতো নতুন খাতগুলো থেকে রাজস্ব সংগ্রহের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারকে ক্রমবর্ধমান বাজেটের ব্যয় মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে, যা ভবিষ্যতে সুদ পরিশোধের বড় চাপ তৈরি করবে।

রাজস্ব আদায়ের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, বাস্তবতার তুলনায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে থাকলেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। বিশাল এই লক্ষ্যমাত্রাই ঘাটতি দৃশ্যমান হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং কিছু শিল্প কারখানা বন্ধ থাকাকে তিনি রাজস্ব আদায়ে মন্থর গতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অনেক বড় করদাতার দেশত্যাগ ও অর্থ পাচারের প্রভাবও রাজস্ব খাতে পড়েছে। তবে বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যেও পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে না পারলে এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা আরও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026