1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাটের ব্যাগ ও ইউনিফর্ম দিচ্ছে সরকার: জুলাইয়ে শুরু হচ্ছে পাইলট প্রকল্প সৌদি আরব থেকে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, মে মাসের শুরুতে পৌঁছাবে চট্টগ্রাম বন্দরে রূপকথার সমাপ্তি: তৃতীয় স্তরে অবনমন লিস্টার সিটির সফটওয়্যারে ভূমির শতভাগ নির্ভুল তথ্য সন্নিবেশের মাধ্যমে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এখন থেকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সামরিক সম্মেলন ফ্লোরিডায় গোলাগুলির ঘটনায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু যুক্তরাজ্যে আগামী প্রজন্মের জন্য তামাকজাত পণ্য ক্রয় নিষিদ্ধে পাস হলো ঐতিহাসিক বিল রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি: ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে ৯৮ হাজার কোটি টাকা এস আলম গ্রুপের ঋণের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি: অর্থমন্ত্রী

ফ্লোরিডায় গোলাগুলির ঘটনায় ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বছর সংঘটিত ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ‘চ্যাটজিপিটি’ এবং এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য সরকার। অভিযোগ উঠেছে, ওই হামলার আগে বন্দুকধারীকে অস্ত্র নির্বাচন এবং গোলাবারুদ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছে এই এআই চ্যাটবট। প্রযুক্তির ইতিহাসে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা বা সহায়তার অভিযোগে এআই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ।

গত বছরের এপ্রিলে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক বন্দুকধারীর অতর্কিত হামলায় দুইজন নিহত এবং ছয়জন গুরুতর আহত হন। হামলার পর পুলিশের গুলিতে আহত অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। বর্তমানে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলা চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন প্রসিকিউটররা বন্দুকধারীর ডিজিটাল ডিভাইসে চ্যাটজিপিটির সাথে কথোপকথনের রেকর্ড খুঁজে পান, যা এই নতুন তদন্তের পথ প্রশস্ত করেছে।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার এক বিবৃতিতে জানান, চ্যাটবটটি অভিযুক্ত শুটারকে কোন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা সুবিধাজনক হবে, নির্দিষ্ট বন্দুকের সঙ্গে কোন ধরনের গুলি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্বল্প দূরত্বে সেই অস্ত্রের কার্যকারিতা কেমন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ প্রদান করেছে। উথমায়ার যুক্তি দিয়েছেন, স্ক্রিনের ওপাশে যদি কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ এভাবে অপরাধের ব্লু-প্রিন্ট বা কারিগরি সহায়তা দিত, তবে তার বিরুদ্ধে খুনের ষড়যন্ত্র বা সহায়তার সরাসরি অভিযোগ আনা হতো। প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত কি না, তা এই তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

ফ্লোরিডার প্রসিকিউশন দপ্তর ইতোমধ্যে ওপেনএআই-কে নথিপত্রসহ তলব করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, চ্যাটজিপিটি-র দেওয়া তথ্য ওই অপরাধ সংগঠনে কতটা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে এবং এর জন্য নির্মাতা কোম্পানিটিকে ফৌজদারিভাবে দায়ী করা যায় কি না। মূলত এআই-এর সেফটি ফিল্টার বা নিরাপত্তা বেষ্টনী কেন এই ধরনের স্পর্শকাতর জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে কাজ করেনি, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করা হলেও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আইনি দায় নিতে সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি দাবি করেছে, তারা তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, চ্যাটবটটি কেবল ইন্টারনেটে বিদ্যমান সাধারণ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সরবরাহ করেছে। কোনো ব্যক্তি বা ব্যবহারকারীকে অবৈধ কাজ করতে বা অপরাধ সংগঠনে প্ররোচিত করার কোনো উদ্দেশ্য প্রযুক্তির ছিল না।

এই তদন্তটি বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতদিন পর্যন্ত এআই-এর মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো, মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন কিংবা কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কার কথা আলোচিত হলেও, এখন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এর প্রত্যক্ষ ব্যবহারের বিষয়টি বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আগ্নেয়াস্ত্রের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআই-এর তথ্য প্রদানের সীমাবদ্ধতা কতটুকু হওয়া উচিত, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকরা নতুন করে ভাবছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার রায় বা তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। যদি ওপেনএআই এই ঘটনায় দায়ি সাব্যস্ত হয়, তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অ্যালগরিদম এবং তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে আরও কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। ফ্লোরিডার এই তদন্ত এখন কেবল একটি অপরাধের বিচার নয়, বরং প্রযুক্তির নৈতিক সীমানা নির্ধারণের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026