1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বিশেষ দূতের ঢাকা সফর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ এনদ্রিকের নৈপুণ্যে পিএসজিকে হারাল লিঁও, জমজমাট লিগ ওয়ানের শিরোপা লড়াই বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও জনসভায় যোগ দিতে নিজ জেলায় প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সমঝোতা প্রসঙ্গে গোলাম মাওলা রনির পর্যবেক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি হরমুজ প্রণালিতে বিনামূল্যে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়: ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রিহ্যাব নির্বাচনে ড. আলী আফজাল সভাপতি ও আব্দুর রাজ্জাক সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত এক মাসে দ্বিতীয় দফায় বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজিতে বাড়ল ২১২ টাকা

নিজের মেয়েকে হত্যা করে জামাতাকে ফাঁসানোর চেষ্টা: সাত বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

পরিবারের অমতে বিয়ে করায় তথাকথিত ‘সম্মান’ রক্ষার নামে নিজের মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার সাত বছর পর বেরিয়ে এসেছে ঘটনার প্রকৃত রহস্য। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের হোতা স্বয়ং ভুক্তভোগীর বাবা মো. কুদ্দুছ মিয়া। শুধু হত্যা করেই ক্ষান্ত হননি তিনি, অপরাধ আড়াল করতে এবং নির্দোষ জামাতাকে ফাঁসাতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে আইনি লড়াই ও তদন্ত সংস্থাগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় রেখেছিলেন। সম্প্রতি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই ‘অনার কিলিং’ বা তথাকথিত সম্মান রক্ষার্থে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হত্যাকাণ্ড নিহত পারুল আক্তার টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ঘড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. কুদ্দুছ মিয়ার মেয়ে। ২০১২ সালে তিনি পরিবারের অমতে একই গ্রামের নাসির উদ্দিন ওরফে বাবুকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর এই দম্পতি ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে পারুল তাঁর বাবার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেন এবং পারিবারিক কলহের জেরে বাড়িতে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করেন।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পালিয়ে বিয়ে করার বিষয়টিকে কুদ্দুছ মিয়া পরিবারের জন্য চরম অবমাননাকর হিসেবে গণ্য করতেন। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি তাঁর বন্ধু ও ভাড়াটে খুনি মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা ডাকাতের সঙ্গে মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ২০১৫ সালের ২২ জুলাই ভালো জায়গায় বিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পারুলকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কলন্দপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গভীর রাতে তুলসীগঙ্গা নদীর পাড়ে ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে এবং গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে পারুলকে হত্যা করেন তাঁর বাবা ও সহযোগী মোকাদ্দেছ। হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে তাঁরা দ্রুত এলাকায় ফিরে আসেন।

তদন্তের জটিলতা ও আইনি মারপ্যাঁচ পারুল নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্বামী নাসির উদ্দিন একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। অন্যদিকে, কুদ্দুছ মিয়া উল্টো জামাতা নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও গুমের অভিযোগ তুলে মামলা করেন। দীর্ঘ সাত বছর ধরে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিআইডি এবং পিবিআই দফায় দফায় তদন্ত করেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। প্রতিটি সংস্থা তদন্ত শেষে নিখোঁজের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে কুদ্দুছ মিয়া বারবার ‘নারাজি’ আবেদন দিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি জানান। এমনকি তিনি জমি বিক্রি ও ঋণ করে মামলার খরচ চালিয়েছেন, যা তদন্তকারীদের কাছে তাঁর দাবির সত্যতা প্রমাণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছিল।

সর্বশেষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের পর আদালত পুনরায় পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিলে মামলার মোড় ঘুরে যায়। তদন্ত কর্মকর্তা পারুলের স্বামীর করা সেই পুরনো জিডির সূত্র ধরে একটি বিশেষ মুঠোফোন নম্বরের সন্ধান পান। সেই নম্বরটি ২০১৫ সালের জুলাই মাসে কুদ্দুছ মিয়ার দখলে ছিল, যা তিনি পরবর্তীতে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সাড়ে সাত বছর পর প্রযুক্তির সহায়তায় এবং পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই নম্বরটি কুদ্দুছ মিয়াই ব্যবহার করতেন।

রহস্য উদ্ঘাটন ও স্বীকারোক্তি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পিবিআই কুদ্দুছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করলে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি ভেঙে পড়েন এবং নিজের মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। তিনি স্বীকার করেন যে, সামাজিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের তাড়না থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন এবং জামাতাকে আজীবন কারাগারে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কুদ্দুছ মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানায় ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই উদ্ধার হওয়া এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উদ্ধারকৃত ওই লাশটি পারুল আক্তারের ছিল।

সমাজতাত্ত্বিক ও আইনি প্রেক্ষাপট তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে ‘অনার কিলিং’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশে পরিবারের অবাধ্য হয়ে বিয়ে বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ার অপরাধে আপনজনদের হাতে হত্যার এমন নজির দেখা যায়। বাংলাদেশে এই ধরনের ঘটনার প্রকোপ কম হলেও এই মামলাটি একটি বিরল ও নৃশংস উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে জয়পুরহাটের আদালতে এই হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বগুড়া জেলা পিবিআই ২০১৯ সালে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশের মামলার ভিত্তিতে ২০২৬ সালের শুরুতে কুদ্দুছ মিয়া ও তাঁর সহযোগী মোকাদ্দেছের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর নিরপরাধ জামাতা নাসির উদ্দিন আইনি হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়েছেন এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের মুখোমুখি হয়েছেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026