নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সুসংহত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফরের আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্য এবং আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। মূলত দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে একটি টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড় করানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করাই ছিল এই আলোচনার প্রধান উপজীব্য।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়। বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার বাংলাদেশের তরুণ জনশক্তির সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাদের অবদানের প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেন যে, দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে গড়ে তুলতে তথ্য-প্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে দুই দেশের যৌথ প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়নে মার্কিন প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারিত করার বিষয়ে তিনি বিশেষ দূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, বিশেষ দূত হার্ডারের এই সফরটি মূলত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের একটি অংশ। তিনি বাংলাদেশে তিন দিনের সফরে রয়েছেন, যা গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) শুরু হয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিনে পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে এই সাক্ষাৎটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূতের এই সফরটি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন কেবল সামরিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক ও জনশক্তি উন্নয়নমূলক খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী কাজ করতে আগ্রহী। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে, এই সফর তারই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, তিন দিনের এই সফরকালে বিশেষ দূত হার্ডার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আজ সোমবার তার সফরের শেষ দিনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের কথা রয়েছে। সফর শেষে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ওয়াশিংটনে তার সফরের সারসংক্ষেপ ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা পেশ করবেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের নতুন এক মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।