নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা বগুড়ায় দিনব্যাপী সফরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকাল ১০টার দিকে তিনি বগুড়ায় পৌঁছান। এর আগে ভোর ৬টা ১০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে তিনি উত্তরবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ জেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই প্রাচীন জনপদকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী এই নতুন সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন করবেন। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের ফলে এই অঞ্চলের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সফরের শুরুতেই বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করবেন। এর ঠিক পরেই বেলা সোয়া ১১টায় বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে জজ আদালতের ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে জামিন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুপুরের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া শহর থেকে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী অভিমুখে যাত্রা করবেন। সেখানে দুপুর পৌনে ১টায় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে আয়োজিত দেশব্যাপী হামের টিকা ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। স্বাস্থ্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বগুড়া সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে বিকেল ৪টার জনসভাকে। শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিজ জেলায় এটিই তাঁর প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশ। তাই স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই জনসভা থেকে তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন এবং জেলার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উপাসনালয় বায়তুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে।
দিনব্যাপী ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তিনি বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) যাত্রাবিরতি করবেন। সেখানে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহর ও আশেপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও সিটি করপোরেশন ঘোষণার ফলে বগুড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উন্নয়নের আশাবাদ সঞ্চারিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোনো ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বগুড়াবাসী। এই সফরের মাধ্যমে কেবল বগুড়া নয়, বরং সমগ্র উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।