অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে সোনা ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ দর অনুযায়ী আজ শনিবার সারা দেশে মূল্যবান এই দুই ধাতু কেনাবেচা হচ্ছে। গত বুধবার মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে সোনা ও রুপার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায় সংগঠনটি।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে খাঁটি সোনার (পাকা সোনা) সরবরাহ ও চাহিদা বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বাজুস সূত্রে জানা গেছে।
চলতি ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, বছরের প্রথম সাড়ে তিন মাসেই দেশের বাজারে ৫৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৩ বার কমানো হয়েছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও সোনার বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ওই বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল ঊর্ধ্বমুখী এবং মাত্র ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার ওপর বৈশ্বিক নির্ভরশীলতা বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।
সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করছে। বুধবারের সমন্বয়ে রুপার দাম ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সেই হিসাবে আজ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৭৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রুপার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৩৪ বার এর দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ১৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৫ বার কমানো হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে রুপার বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা থাকলেও বছরের শেষ দিকে দাম বাড়তে শুরু করে। গত বছর মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বারই ছিল মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গহনা তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল সোনা ও রুপার এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে জুয়েলারি শিল্পের বিক্রিতে ভাটা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে এবং চোরাচালান রোধে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।