1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
হলিউডে সৃজনশীলতার সংকট ও চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্টিভেন স্পিলবার্গের উদ্বেগ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা ইরানের: বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন নিজের মেয়েকে হত্যা করে জামাতাকে ফাঁসানোর চেষ্টা: সাত বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন বাংলাদেশকে আতিথ্য দিতে ১৬ সদস্যের শক্তিশালী টেস্ট দল ঘোষণা করল পাকিস্তান ইনজুরি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে পরাজয়: মোস্তাফিজের জন্য এক হতাশাজনক দিন স্প্যানিশ ক্লাব কর্নেয়ার মালিকানা কিনলেন লিওনেল মেসি তেজগাঁওয়ে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৯ দেশের বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে সোনা ও রুপার দাম হজের খরচ আগামী বছর আরও কমানোর প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর সরকারের দুই মাস পূর্তি: আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

শ্রীলঙ্কায় নিম্নমানের কয়লা আমদানির অভিযোগে জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে
শ্রীলঙ্কায় নিম্নমানের কয়লা আমদানির অভিযোগে জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ
শ্রীলঙ্কার জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিম্নমানের কয়লা আমদানির অভিযোগ এবং দেশজুড়ে তীব্র জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালা। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দপ্তর থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই তারা স্বেচ্ছায় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার সকালে মন্ত্রী কুমারা জয়াকোডি ও সচিব উদয়াঙ্গা হেমাপালা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। মূলত নিম্নমানের কয়লা আমদানির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ক্ষতিসাধন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্তের পথ সুগম করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুমারা জয়াকোডি বর্তমান সরকারের প্রথম কোনো শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রিসভার সদস্য, যিনি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করলেন।

জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ সরকারি অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “সরকার কোনো তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে না। কয়লা ক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ নির্দেশিকা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে যেহেতু প্রশ্ন উঠেছে, তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখতে এই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মন্ত্রী সরাসরি কোনো জালিয়াতি বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি নৈতিক অবস্থান থেকে পদত্যাগ করেছেন।” সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

শ্রীলঙ্কার জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঘনীভূত হচ্ছিল। গত সপ্তাহে দেশটির সংসদে জ্বালানি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। যদিও ভোটাভুটিতে সরকার পক্ষ জয়ী হওয়ায় মন্ত্রী সে যাত্রায় টিকে যান, কিন্তু জন অসন্তোষ ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে পদ ছাড়তে হলো। প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে কেবল বর্তমান ঘটনা নয়, বরং ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানিকৃত সমস্ত কয়লা ক্রয়ের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত নিম্নমানের কয়লার কারণে দেশটির প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘লাকভিজয়া’র উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে এর আগে নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী কয়লা সরবরাহ না করায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত একটি বিশেষ নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শ্রীলঙ্কার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করে লাকভিজয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন মানসম্মত কয়লার প্রয়োজন হয়। কিন্তু নিম্নমানের কয়লা সরবরাহ এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সম্প্রতি দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। এই সংকট মোকাবিলায় গত মাসে শ্রীলঙ্কাকে জরুরি ভিত্তিতে আরও ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করতে হয়েছে, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় জ্বালানি খাতের এই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দীর্ঘমেয়াদী তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব না হলে দেশটির বিদ্যুৎ খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার অন্য কোনো সদস্যের ওপর ন্যস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026