রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এই অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানা এলাকায় চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ২১ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জন, হাতিরঝিল থানায় ১০ জন, আদাবর থানায় ৮ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৬ জন এবং শেরেবাংলা নগর থানায় ৪ জন রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সুজন হাওলাদার (৩০), সুমন ব্যাপারী (৩০), রফিক (৬৫), মোতালেব (৩০), ইউছুপ আলী (৩৬), শওকত (৪৪), সাঈদ ব্যাপারী (৩৯), রাশেদুল ইসলাম (৩২) ও হাবিবুল্লাহসহ (৪০) মোট ৬৯ জনের নাম প্রকাশ করেছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৩১ পিস ইয়াবা বড়ি, ১৫০০ প্যাকেট আর্ট কার্ড এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৫২০ টাকা উদ্ধার করে। এছাড়া অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত তিনটি পুরোনো ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ অন্যান্য প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর জনবহুল তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ রোধে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে এবং অপরাধীদের দমনে এ ধরনের জোরালো তৎপরতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে টহল পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চেকপোস্টগুলোতেও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।