1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
হলিউডে সৃজনশীলতার সংকট ও চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্টিভেন স্পিলবার্গের উদ্বেগ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা ইরানের: বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন নিজের মেয়েকে হত্যা করে জামাতাকে ফাঁসানোর চেষ্টা: সাত বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন বাংলাদেশকে আতিথ্য দিতে ১৬ সদস্যের শক্তিশালী টেস্ট দল ঘোষণা করল পাকিস্তান ইনজুরি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে পরাজয়: মোস্তাফিজের জন্য এক হতাশাজনক দিন স্প্যানিশ ক্লাব কর্নেয়ার মালিকানা কিনলেন লিওনেল মেসি তেজগাঁওয়ে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৯ দেশের বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে সোনা ও রুপার দাম হজের খরচ আগামী বছর আরও কমানোর প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর সরকারের দুই মাস পূর্তি: আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

হলিউডে সৃজনশীলতার সংকট ও চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্টিভেন স্পিলবার্গের উদ্বেগ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

বিনোদন ডেস্ক

বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ হলিউডের বর্তমান ধারা এবং চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ১৫ এপ্রিল আয়োজিত ‘সিনেমাকন’ উৎসবে উপস্থিত হয়ে তিনি সতর্কবার্তা দেন যে, চলচ্চিত্র শিল্প যদি কেবল পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত গল্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই শিল্পের সৃজনশীলতা ও প্রাণশক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। একই অনুষ্ঠানে তিনি তার আসন্ন চলচ্চিত্র ‘ডিসক্লোজার ডে’-র প্রথম ঝলক প্রদর্শন করেন, যা বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

বিগত কয়েক দশকে স্পিলবার্গ তার অসাধারণ নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে চলচ্চিত্রকে যেমন বিশ্বজনীন বাণিজ্যিক রূপ দিয়েছেন, তেমনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন কল্পনার নতুন জগৎ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ‘দ্য ফ্যাবেলম্যানস’ বা ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’-র মতো ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল গল্পের দিকে মনোনিবেশ করলেও, ‘ডিসক্লোজার ডে’-র মাধ্যমে তিনি পুনরায় সায়েন্স ফিকশন বা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর চেনা ময়দানে ফিরে আসছেন। এই চলচ্চিত্রে তিনি রহস্য, উন্নত প্রযুক্তি এবং অজানার প্রতি মানুষের চিরন্তন বিস্ময়কে তুলে ধরেছেন।

‘ডিসক্লোজার ডে’-র কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ভিনগ্রহের প্রাণীর পৃথিবীতে আগমন এবং সেই সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার সরকারি ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে। এর আগে ‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল’ এবং ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অব থার্ড কাইন্ড’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রে স্পিলবার্গ মহাকাশ ও এলিয়েন সম্পর্কিত বিষয়বস্তুকে মানবিক আবেগের সাথে নিখুঁতভাবে গেঁথেছিলেন। নতুন এই চলচ্চিত্রে এমিলি ব্লান্ট একজন আবহাওয়া সংবাদকর্মীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যার সাথে ভিনগ্রহের আগন্তুকদের রহস্যময় সংযোগ স্থাপিত হয়। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন জশ ও’কনর এবং কলিন ফার্থ। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য লিখেছেন ডেভিড কোয়েপ, যিনি ইতিপূর্বে স্পিলবার্গের ‘জুরাসিক পার্ক’-এর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন।

সিনেমাকনে প্রদর্শিত ছবির প্রাথমিক দৃশ্যে দেখা যায়, আধুনিক প্রযুক্তি ও রহস্যময় আবহের সমন্বয়ে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবতারণা করা হয়েছে। তবে কেবল নতুন ছবি নিয়ে আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না এই অস্কারজয়ী নির্মাতা। তিনি বর্তমান হলিউডের ব্যবসায়িক কাঠামোর কড়া সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে চলচ্চিত্র শিল্প অতিমাত্রায় ব্র্যান্ড ও সিক্যুয়েল নির্ভর হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে প্রযোজনা সংস্থাগুলো বারবার একই ধরনের গল্প ও চরিত্র পর্দায় নিয়ে আসছে, যা নতুন ও মৌলিক চিন্তার পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। স্পিলবার্গের মতে, দর্শককে অবাক করার ক্ষমতাই সিনেমার প্রধান শক্তি। যদি সৃজনশীল গল্পের অভাব ঘটে, তবে চলচ্চিত্র মাধ্যমটি একঘেয়েমিতে পর্যবসিত হবে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেন স্পিলবার্গ। তিনি মনে করেন, বড় পর্দা এবং সিনেমা হলের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ছাড়া চলচ্চিত্রের পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পাওয়া অসম্ভব। বর্তমানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছবিগুলো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ায় হলের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কমছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদর্শন শিল্পের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই পরিস্থিতিতে তিনি প্রযোজনা সংস্থা ইউনিভার্সাল পিকচার্সের প্রশংসা করেন, যারা প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা প্রদর্শনের সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পিলবার্গের এই অবস্থান বিশ্ব চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। একদিকে প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ ও বড় বাজেটের ব্যবহার বাড়লেও, অন্যদিকে মৌলিক গল্পের অভাব চলচ্চিত্রকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ‘ডিসক্লোজার ডে’ কেবল একটি চলচ্চিত্র হিসেবে নয়, বরং স্পিলবার্গের সৃজনশীল দর্শনের এক বড় পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে হলিউড কি স্পিলবার্গের এই সতর্কবার্তাকে আমলে নিয়ে মৌলিকত্বের পথে ফিরবে, নাকি বাণিজ্যিক নিরাপত্তার মোড়কে চেনা বৃত্তেই আবর্তিত হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026