আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালীতে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এক ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে এ তথ্য জানান। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই ভার্চুয়াল সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। সম্মেলনে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহ এবং জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণ শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রণালীতে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তাঁর দেশ গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে উল্লেখ করেন, চলমান উত্তেজনা বা সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর বহুমাত্রিক প্রভাব বিশ্বব্যাপী অনুভূত হবে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে এবং জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে মানবিক ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেশটির জনগণ অনুভব করতে শুরু করেছে। তিনি জানান, সরকার পরিবারগুলোকে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে নীতিগত উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে এই পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
অস্ট্রেলিয়া মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে থাকে, যার কাঁচামালের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। ফলে প্রণালীতে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অস্ট্রেলিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক উদ্যোগ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়ার এই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।