আইন আদালত ডেস্ক
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জ এলাকায় সাত বছর আগে হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইমরান ও রবিন নামে দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সানজিদা নামে এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে এবং পরবর্তীতে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন। মামলার তদন্ত, জব্দকৃত আলামত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন। অপরদিকে, সানজিদার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জ এলাকায় মাদকদ্রব্য হেরোইন কেনাবেচা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ইমরান ও রবিনকে আটক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বেবি ও সানজিদা নামে আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে জানা যায়।
পরে আটক দুই আসামির দেহ তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে মোট ১১৮ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
পরবর্তীতে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণে বিভিন্ন সাক্ষী উপস্থাপন করে এবং জব্দকৃত আলামত আদালতে প্রদর্শন করে। অপরদিকে, আসামিপক্ষ তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে অভিযোগ অস্বীকার করে।
বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় মাদক পাচার, সংরক্ষণ ও বিক্রির মতো অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে এবং আদালতগুলো প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করে আসছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের রায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগের বার্তা প্রদান করবে।