রাজনীতি ডেস্ক
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমাদান কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অংশগ্রহণমূলক করার বিষয়টি বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন এমন নারী নেত্রীদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা এবং জমা দেওয়ার সময় ৫০ হাজার টাকা জামানত প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দলীয় শৃঙ্খলা অনুসরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন ও আসনভিত্তিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক দল ও জোটভিত্তিক আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে বিএনপি ও তাদের মিত্র জোটের জন্য মোট ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই জোটে গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটভুক্ত দলসমূহ—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিস—মিলে ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্য একত্রিত হয়ে একটি আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
ইসি সূত্রে আরও জানা যায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা কোনো জোটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ফলে তাদের আসন বণ্টন প্রক্রিয়া পৃথকভাবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ এপ্রিল বাতিল হওয়া মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ শুরু হবে এবং ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি করা হবে।
পরবর্তী ধাপে ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন প্রক্রিয়াটি মূলত দল ও জোটভিত্তিক অনুপাতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, যেখানে জাতীয় সংসদে দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো অভ্যন্তরীণ মনোনয়নের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করে থাকে।