আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের ওপর শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, যদি হরমুজ প্রণালি দ্রুত খোলা না হয়, তবে ইরানের ওপর “ভয়াবহ” আঘাত হানা হতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে একটি চুক্তিও বাস্তবায়িত হতে পারে।
রোববার ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লেখেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে ইরানের ওপর “নরক নেমে আসবে”। তিনি আরও জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে যদি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র অব্যবহৃত থাকবে এবং কোনো সেতু অব্যাহত থাকবে না। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, “ইরান দ্রুত সমঝোতায় না এলে সবকিছু উড়িয়ে দেওয়া এবং তেল সম্পদ দখলে নেওয়া বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।” তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, চলতি আলোচনা কার্যক্রম চলছে এবং আগামীকালই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ৫ এপ্রিল ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলা অথবা সমঝোতায় পৌঁছানো আবশ্যক। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিশেষ অভিযান চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের প্রধান তেল রপ্তানি পথে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রণালি বন্ধ বা অবরুদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ঘোষণা এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালির ওপর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।