রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীতে যানজট কমানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের উদ্যোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মহানগরের অভ্যন্তরে অনুমোদনহীন আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল এ সংক্রান্ত একটি সরকারি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় রুট পারমিটবিহীন ও অনুমোদনহীন নাইট কোচ কাউন্টার স্থাপন ও পরিচালনার কারণে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানামা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের ফলে রাতের সময় রাজধানীতে যানজট তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে ব্যতীত মহানগরের অন্য কোনো এলাকায় আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার পরিচালনা করা যাবে না। বিজ্ঞপ্তি জারির সাত কার্যদিবসের মধ্যে সকল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিজ উদ্যোগে বিদ্যমান অবৈধ কাউন্টার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অমান্য করলে ডিএমপি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, রুট পারমিট বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজধানীতে অনুমোদনহীন বাস কাউন্টার অপসারণের উদ্যোগ কার্যকর হলে প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচলের গতি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং শহরের নৈরাজ্যপূর্ণ যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। এ ছাড়া ডিএমপি জানিয়েছে, এ কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঢাকা শহরে আন্তঃজেলা পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি বিভিন্ন যানবাহন কর্তৃপক্ষকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য সচেতন করা হচ্ছে। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে রাতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হওয়া, যাত্রী ওঠানামা ও অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এসব সমস্যা দূর করতে ডিএমপি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, “অনুমোদনহীন কাউন্টার অপসারণের মাধ্যমে যাত্রী চলাচল এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক অবদান রাখা হবে। নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
ঢাকা মহানগরীতে আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হলে যাত্রী সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত পরিবহন পরিষেবা নিয়ন্ত্রণে আসবে। এর ফলে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।